ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তি অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের টার্গেট করে গুপ্ত হত্যার মিশনে নেমেছে ?
১২ ডিসেম্বর ভোরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তাজবির হোসেন শিহানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।একই দিনে নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে পরে হাসপাতালে মারা যান আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সীমান্ত। এরা দুজনই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুক্ত ছিলেন। তাদের সহপাঠী ও আন্দোলনের সাথে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে টার্গেটেড কিলিং এর। আসলেই কি তাই ?
১৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের এসপি সংবাদ সম্মেলনে জানান, সীমান্ত হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারী অনিকের কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর গাজীপুর পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, শিহানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই অপরাধী চক্র সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চন্দ্রা, মৌচাক, কোনাবাড়ী, চৌরাস্তা, টঙ্গী এলাকায় ছিনতাই করে। তাদের কাছ থেকে নিহত শিহানের মুঠোফোন, স্টুডেন্ট আইডি কার্ড, ব্যাংকের কার্ডসহ চারটি মুঠোফোন ও টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত হন ছাত্রদলের কর্মী জসিম। নিহতের স্বজন, স্থানীয় ও পুলিশের মতে নগরের ময়লার ডিপোর উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে ব্যবসা সংক্রান্ত দখল ও বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এসব ঘটনা নিয়ে গতকাল জাতীয় নাগরিক কমিটি বিবৃতিতে বলেছে ‘এসব হত্যার ঘটনায় আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। নতুন বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাই।’
জাতীয় নাগরিক কমিটি আরও বলছে, ‘সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্যাসিবাদের উচ্ছিষ্টভোগীদের দ্বারা ছাত্র হত্যার নির্দেশ প্রদান এবং গণ হত্যাকারী ছাত্রলীগ কর্তৃক অভ্যুত্থানের শক্তি তরুণদের রক্ত চেয়ে বিবৃতি উক্ত ঘটনাগুলোর সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতাকে ইঙ্গিত করে।’ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বলেছে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তি অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের টার্গেট করে গুপ্ত হত্যার মিশনে নেমেছে। আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।”


