উত্তর কোরিয়া এমনিতেই রাশিয়াকে গোলাবারুদ এবং ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে আসছিলো। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে এখন রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য সৈন্য পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে মস্কো এবং পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে গভীরতর সম্পর্ক এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলেনস্কির মতে পুতিন এবং কিম জং-উনের মধ্যে জুন মাসে একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে এই সৈন্য স্থানান্তর শুরু হয়। রিপোর্ট বলছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন যুদ্ধের মেয়াদ এবং খরচ নিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা উদ্বেগের কারণে রাশিয়ান সেনা নিয়োগ বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যে সেপ্টেম্বর ছিল রাশিয়ার সেনাদের জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী মাস, যেখানে যুদ্ধের শুরু থেকে ১১৫,০০০ রাশিয়ান সেনা নিহত হয়েছে এবং ৫০০,০০০ জন আহত হয়েছে। উত্তর কোরিয়া প্রায় ৩,০০০ সৈন্য পাঠিয়েছে, যারা রাশিয়ার বাহিনীকে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে সহায়তা করছে। এছাড়াও, উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিবিদরা KN-23 ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রর মতো অস্ত্র মোতায়েনে সহায়তা করছে। এই সৈন্যদের কিছু ইতিমধ্যেই ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনের গণমাধ্যম আরো বলছে যে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের রাশিয়ায় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে এবং তারা শীঘ্রই ফ্রন্টলাইনে যোগ দিতে পারে, যা সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে।
রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পিয়ংইয়ংকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্ন করে তুলতে পারে। ওয়াশিংটন সতর্ক করেছে, উত্তর কোরিয়ার এই সম্পৃক্ততা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হতাশা এবং তাদের আরও নির্মম হয়ে ওঠার প্রমাণ।


