আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৪১ কোটি টাকার ভর্তুকি ও প্রণোদনার লক্ষ্যমাত্রা সংকটময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের চাপ বাড়িয়ে দেবে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল ভর্তুকি বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে তা দাঁড়ায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎসহ বেশ কয়েকটি খাতে বেশিরভাগ বকেয়া পরিশোধ মঞ্জুর করায় তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নতুন ভর্তুকি বরাদ্দের বেশিরভাগই যাবে বিদ্যুৎ, সার ও খাদ্য খাতে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি খরচ, বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দরিদ্রদের খাদ্য সহায়তা ও ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভর্তুকি খরচ ক্রমাগত বেড়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাত ভর্তুকি হিসেবে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পেতে পারে।
এলএনজি আমদানিতে ভর্তুকি আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ হাজার কোটি টাকা হবে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে কৃষি খাত। সরকার খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে সার ও আধুনিক যন্ত্রের ওপর জোর দিচ্ছে।
কম আয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তার লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে খাদ্য ভর্তুকি ৩১% বাড়িয়ে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা আছে সরকারের।
রপ্তানি প্রণোদনা ৭ হাজার ৮২৫ কোটি ও রেমিট্যান্স প্রণোদনা ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা থাকতে পারে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রপ্তানিমুখী শিল্পে বছরের পর বছর প্রণোদনা দেওয়া দেশীয় শিল্প রক্ষার কোনো কার্যকর উপায় নয়। প্রতিযোগিতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। ব্যবসার পরিচালন খরচ কমিয়ে সরকার অবদান রাখতে পারে।’
অধ্যাপক লুৎফর রহমানের মতে, রেমিট্যান্সের ওপর নগদ প্রণোদনা বছরের পর বছর চলমান রাখা যাবে না। বিশেষ করে বিনিময় হার এখন প্রায় বাজারভিত্তিক, তাই এগুলো এখন বাদ দেওয়া যেতে পারে।


