মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সেখানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বাংলাদেশকে বলছে-রাখাইনের দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করা না গেলে এবার শুধু রোহিঙ্গা নয়, সেখানে বসবাসরত বাকি জনগোষ্ঠী সীমান্ত ডিঙাতে পারে। সেখানকার সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় বাংলাদেশ হয়ে রাখাইনে সহায়তা পাঠাতে চায় জাতিসংঘ। তবে নিরাপত্তাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে এ প্রস্তাবকে ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে ঢাকা। ইতোমধ্যে কক্সবাজার হয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে সহায়তার একটি চালান সেখানে পাঠিয়েছে জাতিসংঘ। তবে দ্বিতীয় চালানটি আর বাংলাদেশ অতিক্রম করতে দেয়নি সরকার।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন-বাংলাদেশ থেকে ত্রাণ পাঠানো শুরু করলে সেখানকার মানুষ পর্যাপ্ত সহায়তা না পেয়ে ত্রাণের উৎসে চলে আসার শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া রাখাইন সীমান্তে এখন সরকারি কোনো বাহিনী দায়িত্বে নেই। প্রথমত ত্রাণ রাখাইনের অধিবাসী পর্যন্ত পৌঁছাবে এর নিশ্চয়তা নেই। আর আরাকান আর্মির মতো নন-স্টেট অ্যাক্টরদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্কে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে যায়। জাতিসংঘ থেকে আশঙ্কা করা হয়েছে-রোহিঙ্গা বাদে আরও ১২ লাখ রাখাইন অধিবাসী খাদ্য সংকটসহ মানবিক বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারে।
গত অক্টোবরে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্প (ইউএনডিপি) প্রতিবেদনে বলা হয়-রাখাইনের পণ্য প্রবেশের জন্য আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সীমান্ত বন্ধ রয়েছে, আয়ের কোনো উৎস নেই, ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি, নেমেছে অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদনে ধস; জরুরি সেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় দেখা দিয়েছে ঘাটতি। মার্চ কিংবা এপ্রিলের মধ্যে রাখাইনে দুর্ভিক্ষ আঘাত হানতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই রাখাইনে সহায়তা দিতে বাংলাদেশকে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে আসছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবহার করে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরাসরি পণ্য সরবরাহের সুপারিশ করা হয়।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভড. খলিলুর রহমান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সীমান্তে অপরাধ দমনসহ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরাকান আর্মির সঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ রাখাইনে একটি সংকট পরিস্থিতি চলছে। মার্চ বা এপ্রিলে সেখানে দুর্ভিক্ষ আসতে পারে। তখন সেখান থেকে আরও রাখাইন অধিবাসীদের বাংলাদেশে ঢোকার শঙ্কা রয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে দেখছে ভিন্নভাবে। নাম না প্রকাশের শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন-প্রতিবেশী ভারতকেও তো জাতিসংঘ বলতে পারে। তবে ওইখানে সুবিধা করতে পারবে না জেনে সব আবদার বাংলাদেশকে করছে। বাংলাদেশেরও প্রতিবেশী দেশকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে আপত্তি নেই। তবে সেটা অবশ্যই নিজ স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে করতে হবে।


