ইসলাম ভারতে মোগলদের সঙ্গে আসেনি, তাদেরও বহু আগে মালাবার উপকূলে প্রবেশ করেছিল। সেসময়ে কোনো মন্দির ধ্বংসের কিংবা জনগণকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার কোনো রেকর্ড নেই।
আসল রহস্য হলো ইতিহাসে কেন কেবল মোগলদের অবিরাম ঘৃণার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে, যারা লুটপাটের জন্য আসেনি, বরং এখানে এসে বসতি গড়েছিল।
নিঃসন্দেহে তাদের সময়ও মন্দির ধ্বংস হয়েছে, যেমন সোভিয়েত ইউনিয়নে উগ্রবাদীদের দ্বারা গির্জা ও মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল এবং চীনে একটি মসজিদকে প্রকৃতপক্ষে একটি গণশৌচাগারে রূপান্তরিত করা হয়েছিল।
আসল সত্য হলো, মোগল শাসকেরা মন্দির তৈরি বা পৃষ্ঠপোষকতাও করেছেন। অরঙ্গজেব একজন ধর্মান্ধ ও কট্টরপন্থী হলেও তিনি ছিলেন একধরনের সন্ন্যাসী। তার বাইরে অন্যান্য মোগলদের বেশিরভাগই ধর্মীয়ভাবে সহনশীল ছিলেন বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়।
মোগলরা এখান থেকে লুটপাট করে পালিয়ে যায়নি, তারা নিজেদের সবকিছু নিয়ে থেকে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে স্থাপত্য, সাহিত্য, চিত্রকলা, সংগীত ও কবিতার অমূল্য সম্পদ রেখে গেছে।
তারপরও তাদেরকে যদি তৈমুর, নাদির শাহ বা মাহমুদ গজনবির মতো লুটেরাদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, সেটাও বিস্ময়ের কিছু নয়। আজকের বিশ্বজুড়ে বিরাজমান ইসলামবিদ্বেষের কারণে এটি ঘটছে। একইভাবে আমাদের উগ্র জাতীয়তাবাদীদের লক্ষ্যবস্তুতে অপবাদে শুধুমাত্র মোগল রাজবংশই রয়েছে-এটাও আর আশ্চর্যের নয়।
মামলুক, দাস বংশ, খিলজি, তুঘলক বা লোদিদের নাম কেউ উচ্চারণ করে না, কারণ তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে বিশ্ব খুব একটা জানে না। বিশ্ব কেবল মোগলদের জানে, তাই তাদেরই অপমান করা হয়। মোগলরা মুসলিম ছিল, তাই সকল মুসলমানই নাকি আগন্তুক আক্রমণকারী!
যদি অরঙ্গজেবের সময়ে ডিএনএ পরীক্ষা সম্ভব হতো, তবে সম্ভবত দেখা যেত যে তার রক্তে মঙ্গোলদের চেয়ে রাজপুতদের রক্তই বেশি ছিল!


