ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের সাথে বিএনপি’র বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন- বিএনপি ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে কিছু ভুল-বোঝাবুঝি ছিল।আমি মনে করি, বরফ গলতে শুরু করেছে। আমি আশা করি, এবার এটা (সম্পর্ক) আরও ভালো হবে। তারা (ভারত) আমাদের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবে। আমরা এটা বিশেষ করে আবারও বলেছি যে ভারতের এ দেশের মানুষের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করা উচিত। তাদের “সব ডিম এক ঝুড়িতে” রাখা উচিত নয়। তাদের উচিত জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়ন করা।
ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন- আমরা দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য ঘাটতি এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। একই সঙ্গে ভারতের প্রধান বিষয় হলো নিরাপত্তা সমস্যা। আমরা আশ্বস্ত করেছি যে আমরা যদি ক্ষমতায় থাকি তাহলে আমরা এটা নিশ্চিত করব যে এ দেশের মাটি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা ব্যবহৃত হবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন- বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে বলে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে বলে আমি মনে করি না। প্রতিবার ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কিছু সমস্যা হয়। এসব সমস্যা রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক নয়। কিছু ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর সবই রাজনৈতিক কারণে, সাম্প্রদায়িক কারণে নয়। তবে আমরা দেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিয়ে খুবই সতর্ক। বিশেষ করে পূজার আগে। আমরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে দেশজুড়ে আমাদের সব ইউনিটের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বৈঠকের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন- বাংলাদেশে ক্ষমতার রাজনীতিতে পরিবর্তনের পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক খুবই উল্লেখযোগ্য এবং এটা গুরুত্বপূর্ণও। আমরা বিশ্বাস করি, এই বৈঠকের পর সম্পর্ক জোরদার হবে।


