কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিএসআর নীতি অনুসারে, একটি ব্যাংক সিএসআর ফান্ডের ২০ শতাংশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়, ৩০ শতাংশ শিক্ষায়, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যে এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে প্রদান করবে। কিন্তু, ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে দেশের ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়ের ৪৫ শতাংশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করেছে। ব্যাংকাররা বলছেন, মূলত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিচালিত বিভিন্ন তহবিলে দেওয়া হয়েছে এসব অর্থ।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো ২০২৪ জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ে সিএসআর ফান্ড থেকে ৩০৯ কোটি টাকা খরচ করেছে, যার ১৩৮ কোটি টাকা গেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়। ব্যাংকাররা দাবি করছেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) মাধ্যমে সম্প্রতি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় পরিচালিত বিভিন্ন তহবিলে তাদের অর্থ জমা দিতে হয়েছে। বিএবি ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার জানান, বেশিরভাগ সিএসআর তহবিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পরিচালিত তহবিলে পাঠানো হয়েছে আবাসন ও বন্যায় ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য।
তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের কিছুই করার ছিল না। টাকা দেবো না-এমন বলার কোনো উপায় ছিল না।’ বিদ্যমান নিয়মে লোকসানে থাকা কোনো ব্যাংক সিএসআর খাতে ব্যয় করতে পারে না। নিট মুনাফা করা ব্যাংক মুনাফার একটি অংশ ব্যয় করতে পারে। তবে কত শতাংশ ব্যয় করবে বা আদৌ করবে কিনা- তা ওই ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। কেউ ব্যয় করলে অনুপাত কী হবে, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নির্ধারিত আছে।২০১৩ সালের পর লাইসেন্স পাওয়া ১৩টি ব্যাংকের জন্য আগের বছরের নিট মুনাফার অন্তত ১০ শতাংশ পরবর্তী বছরে সিএসআর খাতে ব্যয়ের শর্ত রয়েছে।


