বিশ্বের প্রতি ৫ জন নারীর মধ্যে ১জন এবং প্রতি ৭ জন পুরুষের মধ্যে ১জন ১৮ বছরের কম বয়সে যৌন সহিংসতার শিকার হন। এমনই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিক্যাল জার্নাল দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি গবেষণায়।
‘শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার প্রকোপ এবং প্রথমবার এ ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হওয়ার বয়স : অঞ্চল, বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক বৈশ্বিক বিশ্লেষণ (১৯৯০–২০২৩) ’—শীর্ষক এই গবেষণা ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন (আইএইচএমই) পরিচালনা করেছে। এই গবেষণাটি ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২০৪টি অঞ্চলের বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ গবেষণার অংশ।
এই গবেষণাটি শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ব্যাপকতা সংক্রান্ত প্রথম বৈশ্বিক অনুমানগুলোর মধ্যে অন্যতম। গবেষকেরা লিখেছেন, ‘আমাদের অনুমান, ২০২৩ সালে শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার বৈশ্বিক বয়সভিত্তিক ব্যাপকতা মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ছেলেদের জন্য ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল।’
গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার সর্বোচ্চ। বাংলাদেশে এই হার ৯ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ভারতে ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত। ২০২৩ সালে ভারতে ১৮ বছরের কম বয়সী ৩০ শতাংশের বেশি মেয়ে এবং ১৩ শতাংশ ছেলে যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে।
আইএইচএমই-এর অধ্যাপক ও গবেষণার বরিষ্ঠ লেখক ড. ইমানুয়েলা গাকিদু বলেন, “শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জনস্বাস্থ্য সংকট। বিশ্ব এই সমস্যা প্রতিরোধে ব্যর্থ হচ্ছে। এত অল্প বয়সে এত বেশি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক, এবং এর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।”
গবেষণা বলছে, শিশু যৌন নির্যাতনের শিকাররা প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে মানসিক অবসাদ, উদ্বেগ, মাদকাসক্তি, যৌন সংক্রমণ এবং এমনকি হাঁপানির মতো জটিল রোগে ভুগতে পারেন। এর প্রভাব পড়ে সামাজিক বিকাশ, শিক্ষাগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সাফল্যেও।
আইএইচএমই-এর সহকারী অধ্যাপক ড. লুইসা ফ্লোর বলেন, “এই ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে হলে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিশুদের জীবনে এই অভিজ্ঞতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কমে।” গবেষণায় আরও জানা যায়, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে তথ্য সংগ্রহে ঘাটতি এবং পরিমাপে অসঙ্গতি রয়েছে।


