আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ অধিকতর সংশোধন করে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ গেজেট প্রকাশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক মান ও স্বচ্ছতা রক্ষা মুল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অপরাধের সংজ্ঞাতে পরিবর্তন করা হয়েছে সংশোধনীতে। বাড়ানো হয়েছে আসামিদের সুযোগ-সুবিধা। আগে আসামিরা বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ না পেলেও সংশোধিত আইনে বার কাউন্সিলের অনুমতি সাপেক্ষে সেই সুযোগ রাখা হয়েছে।
সেই সঙ্গে সাক্ষীদের সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়, এখন থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা মামলার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। সংশোধিত আইনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড এবং সব গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের বিচারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের আদেশদাতা উস্কানিদাতা বা সহায়তাকারীই কেবল দোষী নয়, যারা জানতেন যে অপরাধটি সংঘটিত হবে, কিন্তু নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তাদেরও অভিযুক্ত করা যাবে।
কোনো কমান্ডার বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই ধরনের অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে বা অধস্তনদের দ্বারা কৃত অপরাধের তথ্য উপেক্ষা করলে, তাকেও বিচারের আওতায় আনা যাবে। ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দিতে পারবে ট্রাইব্যুনাল। বিদেশে বসে কেউ মানবতাবিরোধী অপরাধ করলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তা আমলে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। ট্রাইব্যুনাল চাইলে শুনানির অডিও ও ভিডিও রেকর্ড রাখতে পারবে। তবে গণমাধ্যমের জন্য সম্প্রচারের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।
ট্রাইব্যুনাল আইনে রাজনৈতিক দলকে বিচারের আওতায় আনার যে ধারাটি খসড়ায় রাখা হয়েছিল, তা বাদ দেয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। পাশাপাশি এ আইনে আওয়ামী লীগ আমলে গুম, খুনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধেরও বিচার হবে।


