নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জনবিক্ষোভের কারণে দেশটি নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ আজও অব্যাহত রয়েছে। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা প্রধানত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাসহ দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের দাবির মধ্যে অন্যতম হলো প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পুনরায় খুলে দেওয়া।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু সহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে ধরেছেন। শহরের কিছু অংশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি থাকলেও তা উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর ও অন্যান্য নেতাদের বাড়িঘরে হামলা এবং ভাঙচুর চালিয়েছেন। পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে ছত্রভঙ্গকারী বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জরিপ বিভাগের ভবনের বাইরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা ধোঁয়ার মেঘে আশেপাশের এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ২১ জন নিহত এবং কয়েকশো মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা ও উদ্বেগের ঢেউ বইছে। বিক্ষোভের মাত্রার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে। ইতিমধ্যেই তিনজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগ করেছেন। এরপর কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী রাম নাথ অধিকারী এবং পানি সরবরাহ বিভাগের মন্ত্রী প্রদীপ ইয়াদভ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
অভ্যন্তরীণ চাপ ও জনবিক্ষোভের কারণে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন সাংবিধানিক পথে সংকটের সমাধানের জন্য তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগের পরেও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নামছেন এবং বিক্ষোভের আকার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে কাঠমান্ডু ও অন্যান্য শহরে আরও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দুইজনের মৃত্যুর খবর এসেছে।
নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জনবিক্ষোভের সংমিশ্রণে সংকটময় রূপ ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কতার সঙ্গে ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগের পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি; বরং নতুন সরকার গঠনের আগে এবং সংসদীয় ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পুনঃস্থাপনের আগে দেশটিতে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। নেপালে চলমান এই আন্দোলন ও সংঘর্ষ দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং জনগণের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


