সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ – সিপিডি আয়োজিত ‘রিকমেন্ডেশন বাই দ্য টাস্ক ফোর্স অন রিস্ট্র্যাটেজিসিং দ্য ইকোনমি’ শীর্ষ সেমিনারে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন – রপ্তানি বহুমুখী করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। তার ভাষ্য, “আপনি যদি চীনের মতো দেশগুলো দেখেন, চীন মূলত তার শিল্পায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে তাদের বিলিয়ন ডলারের একটি অভ্যন্তরীণ বাজার ছিল। চীনে আসা এফডিআইয়ের প্রধান প্রাথমিক আকর্ষণ ছিল চীনা বাজারে প্রবেশ করা। “অটোমোবাইল নির্মাতাদের সবাই চীনে এসেছিল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীনকে অটোমোবাইলের বৃহত্তম প্রস্তুতকারক বানিয়েছিল। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার এর প্রধান আকর্ষণ ছিল। ইলেকট্রনিক গাড়ির ক্ষেত্রে চীন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।”
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলেন, “সর্বোপরি, আপনার যদি ১৭৫ মিলিয়ন মানুষ থাকে এবং এই অভ্যন্তরীণ বাজার প্রতি বছর ৬% হারে বৃদ্ধি পায়, এটি অবশ্যই একটি খুব আকর্ষণীয় বাজার। যারা বাংলাদেশে এফডিআই নিয়ে এসেছে তারাও সেই বাজারকে লক্ষ্য করে এসেছে। তাই এই বাজারটি পর্যাপ্তভাবে কাজে লাগানো হয়েছে কি না, এই নির্দিষ্ট বাজারে গুণগত উন্নতি করা যেতে পারে কি না এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে পরিপক্ব হওয়া এবং তারপর রপ্তানিতে পাঠানো যেতে পারে এমন পণ্য যেমন-সাইকেলওয়ালটন থেকে আসা দেশীয় ইলেকট্রনিক পণ্য এবং এই ধরনের পণ্য, … রপ্তানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারের দিকে ফোকাস কারা উচিত।” সেমিনারে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন-বিএনপি ক্ষমতায় এলে উদার ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত বাণিজ্যে জোর দিবে; সেক্ষেত্রে ‘কঠিন সংস্কারের’ পথে হাঁটবে।
বিএনপি সরকারের সাবেক এ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন-‘উই আর গোয়িং টু সিরিয়াস সিরিয়াস ডি-রেগুলেশন। সিরিয়াস লিবারালাইজেশন। ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে, ইকোনমির ক্ষেত্রে আমরা গভর্নমেন্টের রোল কমিয়ে আনব অ্যাবসলিউটলি।” তিনি বলেন, “বালাদেশের ইকোনমির রিক্যালিব্রেট, রিসেট যদি করতে হয়, প্রথমেই নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও উদারীকরণ করতে হবে অর্থনীতির। তখন দেশে কনফিডেন্স বাড়বে, বিদেশিদের কনফিডেন্স বাড়বে এবং এটাই একমাত্র পন্থা সামনে আগানোর। এটা হবে যন্ত্রণাদায়ক, কঠিন সংস্কার। এখানে হয়ত কিছু প্রতিরোধও থাকবে এবং ভালোভাবে জানি, বাংলাদেশ এটা বাদ দিতে পারবে না।”
তিনি আরো বলেন, “যদি কোনো পণ্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পায়, সে তা আমদানি করুক, স্থানীয় সম্পদ দিয়ে হোক বা আঞ্চলিক সম্পদ ব্যবহার করে হোক, সেই শিল্প সত্যিকার অর্থে টেকসই হবে। নইলে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেওয়া যা বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং ভোক্তার ওপর প্রভাব ফেলবে, তা হবে ক্ষতিকর।” তাঁর ভাষ্য- “আমাদের পার্টিতে একটি গভীর আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে এবং এই বিষয়ে আমরা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি… আমাদের অর্থনৈতিক নীতি… আমাদের সংস্কার কর্মসূচির মধ্যে থাকবে। এ সবই আমাদের অর্থনৈতিক নীতির প্রতিফলন হবে।”


