… আমি মনে করি যে গ্রামীণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন হয়নি। … বাংলাদেশে এ রকম রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির কারণ হলো এখানে একটি বাইনারি ব্যবস্থা চলে। নির্বাচনে এক পক্ষ জয়ী হয়। অপর পক্ষ হারে। শুধু সংসদে নয়, স্থানীয় পর্যায়েও তাই হয়। এই মেরুকরণে যে বিজয়ী হয়, সে সব ছিনিয়ে নেয়। … বাংলাদেশে রাষ্ট্র দুর্বল। প্রশাসনিক যন্ত্র হিসেবেও রাষ্ট্র দুর্বল। দেশের বড় অংশে কার্যত রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব নেই। গ্রামীণ পর্যায়ে আপনি এমন কাউকে ভোট দেন, যিনি প্রয়োজনে আপনাকে রক্ষা করবেন। এমন কাউকে যিনি শক্তিশালী, যার সংযোগ আছে, যিনি হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
…এ রকম অবস্থা থেকে তৈরি হয় নেটওয়ার্ক সোসাইটি। রাষ্ট্রের দুর্বলতা মানে নেতা ছাড়া আপনার আর কোনো উপায় নেই। আপনি আপনার প্রশাসনের কাছে যেতে পারবেন না। নেতাদের কাছে না গেলে আপনার কঠিন সমস্যা সমাধানের আশা করতে পারবেন না। তাই লক্ষণীয় রকম পরিবর্তন না ঘটলে বাংলাদেশের মানুষ যে শক্তিশালী, তাকেই ভোট দেবে। … বাংলাদেশে একটি নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা খুব কঠিন হবে। কারণ, এখানে আছে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতাদের মেরুকৃত সমাজ। তারা স্থানীয় সম্পদ ইত্যাদি নিয়ে এই লড়াই চালিয়ে যাবে।
আমি মনে করি না যে হঠাৎ করে এসব সম্পূর্ণ দূর করার চেষ্টা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যা করা যায় তা হলো একে নিয়ন্ত্রণ করা, দুর্নীতি যাতে হ্রাস পায়, তা নিশ্চিত করা। নিশ্চিত করা যে সহিংসতা যেন হ্রাস পায়। এই সব জিনিস একটি যুক্তিসংগত স্তরে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা। গণতন্ত্র কোনো নিখুঁত সমাজ গঠন করে না। গণতন্ত্র হলো সমাজের দ্বন্দ্বগুলোকে সভ্য পদ্ধতিতে পরিচালনা করা।
… আমি মনে করি, এখানে একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি রয়েছে। এই সংস্কৃতি বেশ হিংসাত্মক। এখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং শাসকদের প্রতিনিধিরা একধরনের দায়মুক্তির অনুভূতি নিয়ে ঘোরে। কোনো কিছুই যেন তাদের স্পর্শ করতে পারবে না। এই দায়মুক্তি মোকাবিলা করা উচিত। এই দায়মুক্তি এমন সমাজ, রাষ্ট্র তৈরি করে, যেখানে কিছু লোক অনেক বেশি আর অন্যরা খুবই কম পায়।
বাংলাদেশেও তাই হয়েছে। কিছু অলিগার্ক বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারপর বাকি জনগণ কোণঠাসা। যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিস্থিতি তৈরি করা যায়, তবে বহাল পরিস্থিতি বদলাতে পারে। … আরাইল্ড এঙ্গেলসন রুড এর প্রথম আলো’র সাথে সাক্ষাৎকার থেকে নেয়া। তিনি নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব অসলোর সাউথ এশিয়া স্টাডির অধ্যাপক


