রাজনৈতিক অস্থিরতা চলতে থাকলে বাংলাদেশ থেকে পোষাক রপ্তানির ক্রয়াদেশের ১০-১৫% স্বল্পমেয়াদে ভারতে স্থানান্তরের সম্ভাবনা আছে ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য মিন্ট’র প্রতিবেদন
কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বৈশ্বিক ক্রেতারা হয়তো বাংলাদেশকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবেন না বা অবিলম্বে কোনো বিকল্প খুঁজে পাবেন না। তবে সংকট অব্যাহত থাকলে তারা দেশটির সঙ্গে অতিরিক্ত বড় ব্যবসা এড়াতে বিকল্প খুঁজবেন।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করে ক্রেতাদের বার্তা দেওয়া দরকার। এ ছাড়া বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
অনেকদিন থেকেই ভারত রপ্তানিমুখি গার্মেন্টস শিল্পকে এগিয়ে নিতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এখন পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ ও ভারতের অবস্থান যথাক্রমে ২য় ও ৫ম।
আবার, ভারত বাংলাদেশের পোশাকের জন্য একটি প্রতিশ্রুতিশীল রপ্তানি বাজার। কিন্তু সামনের উৎসব মৌসুমে ভারতের পোশাকের যোগান বাংলাদেশ দিতে না পারলে তাদের নিজেদের আভ্যন্তরীণ সরবরাহের চাহিদা বাড়বে।
ভারত থেকে বাংলাদেশ ইয়ার্ন, ফেব্রিক্স, ডাইস, কেমিক্যালস ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানি করে। ভারতীয় কাপড় ও সুতার ২৫-৩০% বাংলাদেশে রপ্তানি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে অস্থিরতার কারণে ভারতের বস্ত্রশিল্পও স্বল্প মেয়াদে কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
ভারতীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন গত ১০ আগস্ট বলেছেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতির কারণে ভারতের বস্ত্র ও সুতা শিল্প কিছুটা অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করছে। তিনি আশা করেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং তামিলনাড়ুভিত্তিক ভারতীয় টেক্সটাইল কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে উৎপাদন ও বিনিয়োগ নিরাপদ থাকবে।
ইতোমধ্যে ব্যবসায় গতি ফিরতে শুরু করায় দেশের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তাঁদের অনেকের মত, সাময়িকভাবে কিছু ক্রয়াদেশ কমলেও বড় ক্ষতি হবে না।


