… সবার আগে পুলিশের আইন সংস্কার করতে হবে। এর সঙ্গে এখন সমাজ থেকে দাবি উঠেছে, রাজনীতিকরণ থেকে পুলিশকে বের করতে হবে, যে দলই ক্ষমতায় আসে তারাই যে পুলিশকে ব্যবহার করে, এই ধারা বদলাতে হবে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পুলিশের নিয়োগ দেয় সরকার। এ অবস্থা থেকে বের করে একটি নিরপেক্ষ স্বাধীন কমিশনের অধীনে পুলিশকে পরিচালিত হতে হবে। পুলিশের নিয়োগ এবং কীভাবে কাজ করে, সেই ‘পলিসি গাইডলাইন গুলো’ সেই কমিশন করবে। এটি করা গেলে পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের আশঙ্কা কমে যায়।
দ্বিতীয়ত, পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ও অন্যায়ের তদন্তের জন্য আরেকটি স্বাধীন পুলিশ অভিযোগ সংস্থা বা কমিশন প্রয়োজন। এখন পুলিশের নিজেদের তদন্ত নিজেরা করে কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করে। এটা ঠিক না। কারণ এখানে পক্ষপাতিত্ব চলে আসে। তৃতীয়ত, আধুনিক পুলিশ চাইলে পুলিশকে মানবিক হতে হবে। এ জন্য মানবাধিকারের প্রধান বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের পুলিশের প্রশিক্ষণে আনতে হবে। যেটা এখনকার পুলিশে নেই; শুধু পিটি, প্যারেড ও আইনের প্রশিক্ষণ আছে।
চতুর্থত, পুলিশের কাজ সমাজের মানুষের সঙ্গে। সে জন্য পুলিশকে সমাজের অংশ হয়েই থাকতে হবে। যাতে মানুষ মনে করে পুলিশ আমাদেরই একজন। এ জন্য কীভাবে সমাজ-ঘনিষ্ঠ পুলিশিং করা যাবে, সেটা সংস্কারের চিন্তায় আনতে হবে। … শ্রীলঙ্কা-ভারতসহ সব জায়গাতেই (পুলিশ) কমিশনের কনসেপ্ট একই রকম। কমিশনে বিচার বিভাগ, সমাজের বুদ্ধিজীবী শ্রেণি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সরকারি ও বিরোধী উভয় দলীয় সংসদ সদস্য থাকবেন। কমিশন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগগুলো দেবে। একই সঙ্গে পলিসি গাইডলাইন দেবে।
… বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত পদ্ধতি অনেক বেশি জটিল এবং দীর্ঘ। তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের বছরের পর বছর চলে যায়। এই জায়গাগুলোতে ইউরোপ-আমেরিকা অনেক আধুনিকায়ন করেছে। … আট ঘণ্টার বেশি সময় একজন পুলিশ সদস্যকে দিয়ে কাজ করানো ঠিক নয়। এর বেশি দায়িত্ব পালন করলে তাঁকে ‘ওভার টাইম’ দেওয়া উচিত। সপ্তাহে এক দিন ছুটি দিতেই হবে। ভালো পরিবেশ দিতে হবে। অস্বাস্থ্যকর ব্যারাকে রেখে, ছুটিবিহীন, দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করিয়ে তো পুলিশকে মানবিক করা যাবে না।
… পুলিশিং সমাজ-ঘনিষ্ঠ একটি কাজ। এ জন্য খুব বেশি অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। বিশেষ ইউনিট ছাড়া বাকিদের কাছে আধুনিক অস্ত্র দেওয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই। … চিন্তার বিষয় হলো পুলিশের যে অবস্থা তৈরি হলো, এটা কি শুধু শাসকদেরই দোষ? যিনি পুলিশকে ব্যবহার করলেন, তাঁর তো দায়ভার আছেই। যিনি ব্যবহৃত হলেন, তিনিও দায় এড়াতে পারেন না। আইনে তো বলাই আছে, পুলিশ সদস্যরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তার অন্যায় আদেশ মানবেন না। কিন্তু বাস্তবিক অবস্থা হলো বেআইনি আদেশটা না মানলে পরদিন কোনো একটা অভিযোগ এনে কর্তৃপক্ষ ওই সদস্যকে চাকরিচ্যুত করে দিল।…


