বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, দেশের নির্বাচনকে পরিকল্পিতভাবে ব্যাহত করার জন্য নিত্যনতুন দাবি তোলা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই দাবিগুলো সাধারণ মানুষের কাছে অচেনা এবং নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে জটিল করার লক্ষ্যে আনা হচ্ছে।
মির্জা ফখরুল এসব মন্তব্য করেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাজী জাফর আহমদের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায়।এই সভার আয়োজন করে ভাসানী জনশক্তি পার্টি। সভা অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক মহল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি (প্রত্যাশিত পিআর) সাধারণ মানুষের কাছে বোঝানো কঠিন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেকে হুমকি দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তবে সংখ্যানুপাতিক ভোট পদ্ধতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাকে ভোট দেওয়া হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষ সহজে জানতে পারবে না।
ফখরুল বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে বিএনপি সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করেছে এবং কোথাও বাধা সৃষ্টি করেনি। কখনো বড় ধরনের দাবি তুলে সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে জনগণকে বিভ্রান্ত করেনি। তিনি উল্লেখ করেন, গণ–অভ্যুত্থানের সাত থেকে আট দিন পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন, যা নিয়ে তাকে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে।
তিনি দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যদি তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হয়ে যেত, তবে অর্থনীতির এই বেহাল অবস্থা দেখা যেত না। নির্বাচিত সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শক্তিশালীভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারত এবং প্রতিকূল শক্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হতো।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভুলিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে যারা সহযোগিতা করেছে, তারাই আজ বিভিন্ন বড় বড় দাবি তুলছে। তিনি জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরের কিছু মহল সচেতনভাবে চেষ্টা করছে যেন গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসতে না পারে। এ লক্ষ্যে আরও কাজ করতে হবে। এছাড়া তিনি এস আলম গ্রুপের ভারতে থাকা কার্যক্রমের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, তারা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই টাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশে নির্বাচন বন্ধ করার পরিকল্পনা চলছে এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ফখরুল সরকারের কাছে জটিলতা বাড়ানো না করে দ্রুততম সময়ে জুলাই সনদ প্রণয়নের কাজ শেষ করার এবং ঘোষণার অনুযায়ী নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন দলটির মহাসচিব আবু ইউসুফ। সভায় আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু।


