পঞ্চগড় জেলার ৩৯টি নদীর মধ্যে ৬টি আন্তঃসীমান্ত নদী এবং ৩৩টি অভ্যন্তরীণ নদী রয়েছে। ভারত ও চীনের উজানে বাঁধ নির্মাণের ফলে এসব নদীর পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে নদীগুলো শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। মহানন্দা, করতোয়া, চাওয়াই, পাথরাজ, ঘোড়ামারা ও তালমা নদী ভারতের উজান থেকে প্রবাহিত হয়ে পঞ্চগড়ের বুক চিরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারত উজানে বাঁধ ও ব্লুইচ গেট নির্মাণ করায় এসব নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না, বর্ষাকালে হঠাৎ স্রোত আসায় বন্যা সৃষ্টি হয়। মহানন্দা নদী বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারণ ১৯৯০ সালের দিকে ভারতের শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে বাঁধ নির্মাণের ফলে এর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তিত হয়েছে।
নদীগুলোর পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছ, ব্যাঙ, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণী বিলুপ্তির পথে। নদীগুলোতে বালুচর জমে যাওয়ায় আশপাশের কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। এ কারণে চাষিরা নদীর শুকনো অংশে বোরো-ইরি ধান ও রবিশস্য চাষ করতে বাধ্য হচ্ছেন।পাশাপাশি, পানি সংকটের ফলে ঘূর্ণিঝড়, খরা, নতুন কীটপতঙ্গ ও রোগবালাইয়ের প্রকোপ বেড়েছে।২০২০-২১ অর্থবছরে চাওয়াই নদীর পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও অনিয়মের কারণে কাজটি ব্যর্থ হয়েছে। বর্ষার পানির স্রোতে খনন করা বালু পুনরায় নদীতে জমা হয়েছে। একইভাবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে তেঁতুলিয়ার তিরনইহাট নদী খননের প্রকল্পেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ভারতের একতরফা বাঁধ নির্মাণ ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের ফলে নদীগুলো সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশের সরকারকে প্রতিবেশী দেশের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদী রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পঞ্চগড়ের নদীগুলোর সংকট শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।


