নির্বাচন আয়োজনের পথে , মিয়ানমারের জান্তাবিরোধীদের প্রত্যাখ্যান , চীন-রাশিয়ার সমর্থন

আগামী ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে দেশটির সামরিক জান্তা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন—এটি লোক-দেখানো ও প্রহসনমূলক নির্বাচন ছাড়া আর কিছুই নয়।

চার বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং তৎকালীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেন। সে সময়ের সরকার প্রধান ও নোবেল জয়ী অং সান সুচিকে পাঠানো হয় নির্বাসনে।

তবে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা তো দূরে থাক, চার বছরের প্রায় প্রতি দিনই সংঘাত মোকাবিলায় কেটেছে জান্তা সরকারের। শুরুতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চললেও এক পর্যায়ে একাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সরকারি বাহিনী।

সম্প্রতি আরাকান আর্মিসহ একাধিক সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণে দেশের ৭৫ শতাংশেরও বেশি ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন জেনারেল মিন অং হ্লাইং। চার ভাগের এক ভাগ দখলে রেখে এখনো ‘সরকার’ চালাচ্ছে সেনাবাহিনী।

ডিসেম্বরের নির্বাচনে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) কথা শোনা যাচ্ছে। এর আগে, জান্তা সরকার গণতন্ত্রপন্থি কয়েকটি দলকে নিষিদ্ধ করে। এর মধ্যে আছে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ও শান ন্যাশনালিটিজ লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এসএনএলডি)।

২০২০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল সুচির দল এনএলডি। নির্বাচনকে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ‘নিরপেক্ষ ও মুক্ত’ বলে অভিহিত করেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে ইউএসডিপি ১০-২০টি আসন পেলেও তারা মিন অং হ্লাইংয়ের অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।দলটি অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দলকে এক করে ‘ভোট কারচুপির’ অভিযোগ এনে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে। বাকিটা ইতিহাস।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মিন অং হ্লাইং ইউএসডিপির পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলটির বেশিরভাগ নেতাই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এনএলডি ও এসএনএলডি দৃশ্যপটে না থাকায় ইএসডিপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। ডিসেম্বরের নির্বাচনে জিতে সেনাদের ‘আজ্ঞাবহ’ পার্লামেন্ট তৈরিতে অবদান রাখবে ইউএসডিপি। পরে সহজেই মিন অং হ্লাইংয়ের প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।

সুচি’র সরকারের নেতা ও অন্যান্য বেসামরিক ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত ছায়া সরকার ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’, জান্তাবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ও সাধারণ মানুষ ইতোমধ্যে এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এই নির্বাচন সামরিক শাসনকে দীর্ঘায়ত করার অজুহাত। পশ্চিমের বেশ কয়েকটি দেশও তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে।

তবে মিয়ানমারের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র চীন ও রাশিয়া এই ভোটে সায় দিয়েছে। মিয়ানমারের জান্তাকে সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে আসিয়ান জোটের সভাপতি মালয়েশিয়া। অপরদিকে, সরকারও এই নির্বাচনের বৈধতা আদায়ে উঠে পড়ে লেগেছে। এখন পর্যন্ত ৫৪টি দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। তবে এই দলগুলোর মধ্যে ইউএসডিপির পাশাপাশি জান্তার অনুগত একাধিক দল আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন