কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত-পাকিস্তান সংক্ষিপ্ত আকাশ যুদ্ধ শেষ হলেও সিন্ধু নদের পানি প্রবাহ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা চলছে।ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদদ দেয়ার অভিযোগে সিন্ধু চুক্তি বাতিলের হুমকি দিলেও, পাকিস্তান তা অস্বীকার করে ভারতের পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ বলে মন্তব্য করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সন্ত্রাস মোকাবিলার জন্য নয়। বরং দেশটির বহুদিনের ক্ষোভ—চুক্তিটি পাকিস্তানের পক্ষে পক্ষপাতিত্বপূর্ণ এবং এর ফলে ভারতের পানি চাহিদা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ভারত আশা করছে, চুক্তি পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে দেশের বিশাল জনসংখ্যার জন্য পানি ব্যবহারে সুবিধা অর্জন করা যাবে।
চুক্তি ‘স্থগিত’ রাখার ভারতের সিদ্ধান্ত এবং পাকিস্তানের জন্য যে অনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে, তা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সম্পর্ক ভালো না হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ বন্যা বা হিমবাহ গলে যাওয়ার মতো বিপদ নিয়ে দুই দেশকেই একসঙ্গে ভাবতে হবে।নদীর পানি যদি পাকিস্তানের মানুষের জীবন বা অর্থনীতির ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে, তাহলে ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে।
গত এক দশকে, সিন্ধু নদ চুক্তি ক্রমশ ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখোমুখি হয়েছে। ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাদের ওপর হামলার পর, ভারত পাকিস্তানের দিকে নদীর পানির প্রবাহ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করা হয়নি।
এ চুক্তি শুধুমাত্র দুই দেশের সম্মতিতে পরিবর্তন করা যেতে পারে। তবে ভারত চুক্তি সংশোধনের প্রস্তাব দিলেও ভারতের সরকারি নথি এবং বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করেছে । গত সপ্তাহে জাতিসংঘের এক আলোচনায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পারভাথানেনি হরিশ বলেছেন, পাকিস্তানের বাধাদানমূলক আচরণ ভারতকে তাদের ন্যায্য অধিকার পুরোপুরি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।
সেই একই আলোচনায় পাকিস্তানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি উসমান জাদুন অভিযোগ করেছেন, ভারত নদীর পানি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং ইসলামাবাদ কখনও নয়াদিল্লিকে এই পানিকে চাপে ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত পাকিস্তানে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে তেমন কোনো বড় সক্ষমতা রাখে না, আর এই ধরনের অবকাঠামো গড়ে তুলতে অনেক বছর লাগবে।
তবে, ভারতের তরফে চুক্তি থেকে কার্যত সরে যাওয়ার ঘোষণা পাকিস্তানকে কিছুটা হলেও শঙ্কায় ফেলেছে। কারণ, ভারত এখন আর নদীর পানি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে না, এমনটা জানিয়েছেন ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তারা এবং বিশেষজ্ঞরা।
সিন্ধু নদীর নিচের দিকে অবস্থান করায় পাকিস্তানের কৃষিখাতের জন্য ভারতের দেওয়া তথ্য খুব জরুরি। ভারতের কাছ থেকে বরফ গলা পানি, বন্যার পানি আসার গতি, বৃষ্টিপাতের মাত্রা এবং স্লুইস গেট কখন খোলা হবে—এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা সেচের জন্য পানির চাহিদা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করতে পারে।


