“আগে যখন সত্য বলতাম, তখন রাষ্ট্র ও সরকারি সংস্থাগুলো আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিত। এখন সত্য বললে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ এবং বিদ্বেষমূলক প্রচারণার ভিত্তিতে ‘ট্যাগিং’ করে আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে; তবে সেটা রাষ্ট্র করছে না।কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে উদ্ভট সব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে অনেক সময় যে ‘প্রমাণ’ উপস্থাপন করা হয়, সেগুলো মিথ্যা, অপ্রাসঙ্গিক, বিকৃত কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে করে গণমাধ্যম এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর ফলে মিথ্যাচার, অর্ধ- সত্য ও বিকৃত তথ্যে সাধারণ পাঠক বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হচ্ছেন।
… অতীতের প্রসঙ্গে বললে এটি সত্য যে, গত ১৫ বছরে বেশিরভাগ সংবাদপত্র স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেনি। তারা সেই সরকারকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছে, সত্য লুকিয়েছে, সমালোচনাযোগ্য বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছে, কিংবা তথ্য বিকৃত করেছে-যাতে জনগণ সরকারের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ না করে। আমরা কয়েকটি গণমাধ্যম প্রকাশ্য ও গোপন হুমকি উপেক্ষা করেও সত্য বলার সাহস দেখিয়েছি। … আমাকে মোট ৮৪টি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়, যার মধ্যে ১৬টি ছিল রাষ্ট্রদ্রোহের। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সংসদে দাঁড়িয়ে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’, ‘আওয়ামী লীগবিরোধী’ ও ‘জনবিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। অনেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে… দ্য ডেইলি স্টার বন্ধ করে দেওয়ার ও আমাকে কারাগারে পাঠানোর দাবি তুলেছেন।
… গত প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বা কোনো অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টারের কোনো প্রতিবেদককে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি…এই সময়ে প্রায় ৪০টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা যেন দ্য ডেইলি স্টারে কোনো বিজ্ঞাপন না দেয়। ফলে আমাদের রাজস্ব হঠাৎ করেই ৪০ শতাংশ কমে যায়। আমাদের ওপর আওয়ামী সরকারের এই দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত। … গণমাধ্যমগুলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংবাদ কীভাবে প্রচার করেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা … কিছু গণমাধ্যম ভয়াবহ হুমকির মুখেও প্রতিদিন ছাত্র-জনতা হত্যার সংখ্যা প্রকাশ|
… ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১৪০ জন সাংবাদিককে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে…এই ধরনের পরিস্থিতি দেখে আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, সরকার সাংবাদিকদের সঙ্গে যথেষ্ট সংবেদনশীল আচরণ করছে না। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ‘হত্যা মামলায় অভিযুক্ত’ সাংবাদিক রয়েছেন বাংলাদেশে। .. অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে অনুরোধ-আপনারা যে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেটা প্রমাণ করতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো অবিলম্বে পর্যালোচনা করুন এবং সেগুলো গ্রহণযোগ্য আইনি মানদণ্ডে আনুন।”


