ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল ভোজ্য তেলের মধ্যে মার্কারির উপস্থিতি শনাক্ত করেছে এটি পাব্লিক হেলথ ও ফুড সেফটির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ BFSA ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন আয়োজিত “ফর্টিফাইড ভোজ্য তেল: সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ” শীর্ষক সেমিনারে এই রিসার্চ প্রকাশ করা হয়। সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাবি’র ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের সাবেক পরিচালক ড. নাজমা শাহীন বলেন, “আমরা অপরিশোধিত ভোজ্য তেলে মার্কারির উপস্থিতি পেয়েছি এবং পরিশোধনের পরও এটি পুরোপুরি রিমুভ করা যাচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, গবেষণা দল বিভিন্ন ভোজ্য তেলের গুণগত মান পরীক্ষা করে বিশেষ করে অব্র্যান্ডেড, খোলা সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে আরও গুরুতর অনিয়ম পেয়েছে ।
“পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, এসব তেলে অন্যান্য তেল ও ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত করা হচ্ছে,” যোগ করেন তিনি। BFSA-এর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই সেমিনারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান রেস্টুরেন্ট মালিকদের খোলা তেল ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। “আপনার রেস্টুরেন্টে খোলা তেল ব্যবহার হয় নাড়এটি জনসমক্ষে ঘোষণা করুন। এতে ভোক্তারা নিরাপদ খাবার বেছে নিতে পারবেন,” বলেন তিনি। সেমিনারের সভাপতি BFSA চেয়ারম্যান জাকারিয়া ভোজ্য তেলের অনিরাপদ ব্যবহারের ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরে বলেন, “প্রতি বছর ৩.২ লাখ মানুষ তেল সংশ্লিষ্ট রোগে মারা যায়। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুলতান আলম বলেন, “স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত তেল গ্রহণ। যত কম তেল খাওয়া যাবে, ততই ভালো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়াতে হবে।” GAIN-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার গবেষণার ফলাফলকে “গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত” আখ্যা দিয়ে বলেন, “পরিবর্তন আনতে হলে তরুণদের এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।”


