বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুহারে বাংলাদেশ এখন শীর্ষে এবং বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহারের দিক থেকে দেশটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় গতকাল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সংলাপ আগস্ট ২০২৫: প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও নিরসন’ শীর্ষক সমন্বয় সভায় নাগরিক সচেতনতা ও বহুমাত্রিক উদ্যোগের ওপর জোর দেয়া হয়।
সভায় প্রকাশিত পূর্বাভাস প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি আগস্ট ও আসন্ন সেপ্টেম্বর মাস ডেঙ্গুর জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। আগস্টে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে এবং হাসপাতালগুলোতে ভর্তির চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। তবে বর্ষা শেষ হওয়ার পর অক্টোবরে সংক্রমণ কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় বক্তারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। তাদের মতে, জনগণের সচেতনতার অভাব, সঠিকভাবে কীটনাশক প্রয়োগ না করা, অপর্যাপ্ত সরকারি উদ্যোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পানি নিষ্কাশন সমস্যা এবং জলবায়ুগত প্রভাব মশার প্রজনন বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতে প্রবেশে বাধা, কীটনাশকের প্রতি মশার প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শুধুমাত্র ফগিংকে কার্যকর সমাধান হিসেবে ধরে নেওয়ার ভ্রান্ত ধারণা পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ব্যবহৃত লার্ভিসাইডের কার্যকারিতা যাচাই করতে একাধিক স্বীকৃত ল্যাবে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। মশক কর্মীদের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মনিটরিংয়ের ফলে পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি এসেছে। এছাড়া ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কিট ও সরঞ্জাম সরবরাহের প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছে।
সভায় বিশেষজ্ঞরা শুধু ডেঙ্গুই নয়, বরং জিকা ও চিকুনগুনিয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকির দিকেও সতর্ক করেন। তারা বলেন, এসব ভাইরাসবাহিত রোগ প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ ও নাগরিক সচেতনতা অপরিহার্য। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত সার্ভে পরিচালনা করে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ সভায় বলেন, “ফুটপাত দখল করে বসা বাজার শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কঠিন করে তুলছে, যা মশার প্রজননকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা রাতভর শহরের আবর্জনা পরিষ্কার করি, কিন্তু দুপুরের মধ্যেই আবার তা জমে যায়। ডেঙ্গু মোকাবেলা শুধু সিটি করপোরেশন বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একক দায়িত্ব নয়, বরং এর জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সময়োপযোগী উদ্যোগ, সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণ এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় ঘটাতে পারলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।


