ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি বিস্তৃত রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এই রোডম্যাপ ঘোষণা করেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সময়মত সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
রোডম্যাপে উল্লেখিত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, রাজনৈতিক দল ও দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। এছাড়া ভোটকেন্দ্র স্থাপন, পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক অনুমোদন, নির্বাচনী আইনবিধি সংশোধন, নির্বাচনী বাজেট বরাদ্দ, ডিজিটাল মনিটর স্থাপন, নির্বাচনী সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সংযোজনসহ একাধিক দিককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসি ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রমে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় ধাপের সম্পূরক খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত হবে। নির্বাচনী আইনবিধি সংশোধনের ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রস্তাব ও প্রণয়ন করা হবে। সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র নীতিমালা, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা চূড়ান্তকরণ এবং নির্বাচন পরিচালনা ও অন্যান্য সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন, যা সেপ্টেম্বরের শেষের মধ্যে শেষ করার আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম মধ্য সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণের জন্য গেজেট প্রকাশ ও জিআইএস ম্যাপ তৈরি সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে সম্পন্ন হবে। পোস্টাল ভোট ও ব্যালট প্রস্তুতি অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে, প্রবাসী ভোটারদের জন্য নভেম্বরে ব্যালট পেপার প্রেরণ করা হবে এবং কারাবন্দীদের ভোটের জন্যও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক কার্যক্রম নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে অব্যাহত থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, ভোটের তারিখের প্রায় দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই তফসিল ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে প্রকাশিত হবে।


