মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্কের কারণে ব্রাজিলের মৎস শিল্প গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের মাছের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা দেশটির মৎস খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা। ব্রাজিলের ৬০ শতাংশ মাছ আমেরিকায় রপ্তানি হয়, তাই এই শুল্কের প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
ব্রাজিলের তেলাপিয়া রপ্তানিকারকদের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সংস্থা ফিডার পেসকাডোস, সাও পাওলোতে ৪০০টি মাছের পুকুর পরিচালনা করে। তাদের বার্ষিক উৎপাদন ৯ হাজার ৬০০ টন তেলাপিয়ার প্রায় ৪০ শতাংশ পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হতো। নতুন শুল্ক আরোপের পর এই রপ্তানি ইতিমধ্যেই এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে, যা কোম্পানির কার্যক্রমকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
কোম্পানির পরিচালক জুলিয়ানো কুবিৎসা এএফপিকে জানান, মাছের উৎপাদন মুরগি উৎপাদনের মতো দ্রুত নয়; ডিম ফুটে তেলাপিয়া সুপারমার্কেটে পৌঁছাতে প্রায় আট মাস সময় লাগে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া শুল্ক পরিবর্তনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া কঠিন করে তুলেছে। ফিডার পেসকাডোসের কর্মীরা তাঁদের চাকরি হারানোর প্রবল আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। ব্রাজিলিয়ান ফিশ ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন সতর্ক করেছে যে, প্রায় ২০ হাজার কর্মী ছাঁটাই বা কর্মঘণ্টা কমানোর শিকার হতে পারেন।
ফিডার পেসকাডোস বর্তমানে নতুন বাজারের সন্ধান করছে, তবে কুবিৎসা স্বীকার করেছেন কাজটি কঠিন হবে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মতো এত তেলাপিয়া অন্য কোনো দেশ গ্রহণ করে না। রপ্তানি কমে যাওয়ায় কোম্পানিকে কিছু পণ্য হিমায়িত করতে হচ্ছে, যা তাজা মাছের রপ্তানির চেয়ে কম লাভজনক।স্বল্পমেয়াদে কোম্পানিটি ঘরোয়া বাজারে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, তবে সেখানে দাম কম হওয়ায় লাভের পরিমাণ কম হবে। এই পরিস্থিতিতে ফিডার পেসকাডোস তাদের ৩৫ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এই শুল্ক কেবল লাভই নয়, অসংখ্য কর্মীর জীবিকাও হুমকির মুখে ফেলেছে।


