দিন দিন বাড়তে থাকা তহবিল সংকটের কারণে প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুর শিক্ষা এখন হুমকির মুখে। এ বিষয়ে সতর্ক করে শনিবার (৩১ মে) ইউনিসেফ জানিয়েছে, অবিলম্বে টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া শরণার্থীদের সব ধরনের সহায়তার সুযোগ ঝুঁকিতে পড়ছে, যার মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই শরণার্থী শিবিরে শিশুদের জন্য জরুরি মৌলিক শিক্ষার সুযোগ হারানোর মতো বিষয়ও রয়েছে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “যে শিশুদের কথা আমরা বলছি, তারা বিশ্বের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের অন্যতম। জরুরি তহবিল ছাড়া শিক্ষা কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকতে পারে এবং তাতে রোহিঙ্গা শিশুদের পুরো প্রজন্ম পেছনে পড়ে থাকার ঝুঁকিতে পড়ছে।” ইউনিসেফ জানিয়েছে — তহবিল সংকটের কারণে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করা স্থানীয় কমিউনিটির ১১৭৯ জন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকদের পারিশ্রমিক জুনের পর স্থগিত করতে হচ্ছে।
পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে খুদে শিক্ষার্থীদের (কিন্ডারগার্টেন থেকে গ্রেড ২) আর ইংরেজি, বিজ্ঞান বা সামাজিক শিক্ষা শেখানো হবে না। শুধু মৌলিক বিষয়গুলো- সাক্ষরতা (রোহিঙ্গা), বার্মিজ, গণিত, জীবন দক্ষতা ও সামাজিক-মানসিক শিক্ষার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন কোনো পাঠ্যপুস্তক বা শিক্ষক নির্দেশিকা কেনা হবে না। শিশুদের বিগত বছরগুলোর বইপত্র সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে বলা হবে, তাতে বইগুলোর অবস্থা যা-ই হোক না কেন।
বছর শেষের মূল্যায়ন এবং প্লেসমেন্ট টেস্ট (কোন শিশু কোন শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য তা বের করার পরীক্ষা) বাতিল করা হয়েছে। সংস্থাটি জানায় — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোকে সচল রাখার জন্য ইউনিসেফ তার নিজের কর্মী আগে কমিয়েছে। এটা এ দেশে কর্মী হ্রাসের বড় ঘটনাগুলোর একটি এবং এটা বিশ্বব্যাপী ঘটছে। ইউনিসেফ অগ্রাধিকার দিয়েছে শিক্ষা কেন্দ্রগুলো খোলা রাখার ওপর। সেজন্য লোকবল কমিয়ে একটি ছোট দল রেখেছে এগুলো পরিচালনার লক্ষ্যে।


