আমরা এমন এক দুনিয়ায় বাস করছি, যেখানে চারদিকে সেলিব্রিটিদের রমরমা। বৃহৎ বিনোদনমাধ্যমগুলো এখনো তারকানির্ভর। আমরা এই ঐতিহ্যবাহী গণসেলিব্রিটির যুগ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। শুধু সরে যাচ্ছি না, বরং আমরা এক নতুন ও অনিশ্চিত যুগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।এমনকি কয়েক বছর আগেও যারা অন্ধভক্তি পেতেন, এই নতুন জগতে তাদের প্রতি এখন নতুন একধরনের বিদ্বেষ দেখা দিয়েছে। এই নতুন জগতের একটি বড় অংশ সবচেয়ে তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্ম, তথাকথিত জেনারেশন জি এবং ৪০ এর নিচের বয়সী মিলেনিয়াল।
গত পাঁচ বছরে মূল ধারার গণমাধ্যম জেনারেশন জি সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলেছে। কথাগুলোর একটার সঙ্গে আরেকটার মিল নেই। তারা হয়তো অতিমাত্রায় উদার, অতিরিক্ত বৈষম্যসচেতন অথবা ইন্টারনেটের প্রভাবে বিষাক্ত হয়ে পড়া চূড়ান্ত ডানপন্থী। এরা বই পড়ে না, কিছু পডকাস্টে আসক্ত। বাস্তবতা আরও জটিল। এই লাখ লাখ কিশোর বা তরুণ কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রচারিত টিভি শো বা নাটক একত্রে উপভোগ করে না। তারা আর কোনো টক শো থেকে তাদের রাজনৈতিক ধারণাগুলো গ্রহণ করে না। হলিউডও আর সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল হিসেবে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে পারছে না।
ইন্টারনেট জগতে সাধারণ মানুষ ধনী ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে বিরক্ত হয়ে পড়েছে। আর রাজনৈতিকভাবে নেতাদের বা যারা তাদের কী করতে হবে, তা বলে বেড়ান, তাদের মানুষ সন্দেহ করে। আগের মতো আর তাদের কথা বিনা বাক্যে গ্রহণ করে না। এবারের মার্কিন নির্বাচনেও এমন দেখা গেছে। টেলর সুইফট ও বিয়ন্সে মারাত্মক জনপ্রিয়। কিন্তু উদ্দীপনামূলক সমর্থনের পরও তারা তরুণ ভোটারদের কমলার পক্ষে উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ে আসতে পারেননি। বামপন্থী ঝোঁকের জেনারেশন জি ভোটাররা বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সেই সব সেলিব্রিটির ওপর, যারা গাজার ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেননি। অভিজাত ব্যক্তিদের প্রতি এই অবিশ্বাস বাড়ছে।
ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের সিইও ব্রায়ান টম্পসনকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মাঞ্জিওনে। তিনি এখন অনলাইনে বিশাল এক ভক্তগোষ্ঠী পেয়েছেন। এক সিইওকে হত্যার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। কিন্তু তা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। বেন শাপিরো বা ম্যাট ওয়ালশের মতো ডানপন্থী বিশ্লেষক যখন এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেন, তখন তাঁদের কমেন্ট সেকশন মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসার বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং হত্যার প্রতি সমর্থনে ভরে যায়।
এসব থেকে একটা বার্তা স্পষ্ট, যদি নতুন কোনো আইডল তৈরি হয়, তবে তা আর কোনো গায়ক, নৃত্যশিল্পী বা অভিনেতা হবেন না। অন্তত তরুণ প্রজন্ম এমনটাই মনে করছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। আগামী দশকের বড় লড়াই বাম ও ডানের মধ্যে হবে না। হবে যারা বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকাশ্যে ঘৃণা করেন এবং যারা নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাঁদের মধ্যে।


