আয় বৈষম্যের তুলনায় বাংলাদেশে সম্পদের বৈষম্য পরিস্থিতি আরও খারাপ। এর অর্থ জনসংখ্যার ছোট অংশ সংখ্যাগরিষ্ঠের তুলনায় অনেক বেশি সম্পদের মালিক।
সরকারি তথ্য বলছে – ২০১০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে আয় বৈষম্য ব্যাপক হারে বেড়েছে। এজন্য অর্থনীতিবিদরা আয় বৈষম্য দূর করার পরিবর্তে এজন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিকে সরকারের বেশি মনোযোগকে দায়ী করেছেন।
বৈষম্যের পরিমাপ ২০১০ সালে ০.৪৫৮ থেকে বেড়ে ২০১৬ সালে ০.৪৮ হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে এই উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে। ২০২২ সালে তা ০.৫০ এ পৌঁছেছে। এটি বাংলাদেশকে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় বৈষম্যের দেশগুলোর একটি করে তুলেছে।
আয় বৈষম্যের তুলনায় বাংলাদেশে সম্পদের বৈষম্য পরিস্থিতি আরও খারাপ। এর অর্থ জনসংখ্যার ছোট অংশ সংখ্যাগরিষ্ঠের তুলনায় অনেক বেশি সম্পদের মালিক।
অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এবং ডিসেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে তৈরি শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে-২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সম্পদের বৈষম্য ০.৮২ থেকে বেড়ে ০.৮৪ হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) জানিয়েছে, দরিদ্রতম গ্রামীণ বাসিন্দারা ক্ষুধা মেটাতে ভাতের ওপর নির্ভর করছে। আমিষসমৃদ্ধ খাবার কমিয়ে দিয়েছে।
অথচ, গত ছয় মাসে দেশে সাড়ে তিন কোটি থেকে আট কোটি টাকা দামের আটটি বিলাসবহুল রোলস রয়েস গাড়ি আমদানি করা হয়েছে।
আয় বৈষম্য কমাতে অর্থনীতিবিদরা ধনীদের ওপর উচ্চহারে কর আরোপ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে উচ্চ উপার্জনকারীদের প্রকৃত আয় সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে অসুবিধা ও নীতি নির্ধারণে ধনীদের প্রভাবের মতো বাধা রয়েছে। তাই করনীতির পাশাপাশি সরকারের উচিত কম আয়ের মানুষদের জন্য সুযোগ সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। এর মধ্যে আছে কম আয়ের পরিবারের জন্য শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো ও তহবিল অপব্যবহার ঠেকিয়ে সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী সম্প্রসারণ করা।


