‘সারা দেশে পাঁচ হাজার কাউন্সিলরের মধ্যে এমন হাজারখানেক আছেন, যাঁরা আওয়ামী লীগের নন, স্বতন্ত্র। আমাদের আহ্বানটা তাঁদের প্রতি, যারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলনে ছিলেন।
নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে সারা দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার অপসারিত কাউন্সিলরদের ‘সর্বোচ্চ সহযোগিতা’ চেয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। একটি অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়কের দেওয়া এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা এ বিষয়টিকে ‘আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।
অবশ্য জাতীয় নাগরিক কমিটি বলছে, আওয়ামী লীগের সহযোগী না হওয়া সত্ত্বেও সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কাউন্সিলরদের মধ্যে যাদের সরানো হয়েছে, তাদের অনেকেই জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলেন। আর নাগরিক কমিটি যা বলেছে, সেটা কারও পুনর্বাসন নয়। এটা একটা সাধারণ আহ্বান ছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে মিস কমিউনিকেশন হচ্ছে। ছাত্র গণহত্যা ও বৈষম্যবিরোধী সিটি ও পৌর কাউন্সিলরদের জনস্বার্থে পুনর্বহালের দাবিতে ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে’ গত বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সমাবেশ হয়। এই সমাবেশের আয়োজক বাংলাদেশ সিটি ও পৌর কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশন।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে যে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে, সেই দলে আমরা আপনাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা আশা করি, সেই রাজনৈতিক দলে আপনাদের এই ত্যাগ তিতিক্ষা আমরা মূল্যায়ন করব। জনতা এবং মানুষের মধ্যে যে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক, সেখানে আমরা আপনাদের পাশে পাব আশা করি। এই কমিটমেন্টের (অঙ্গীকার) মধ্যে যেতে পারলে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী দল আমরা উপহার দিতে পারব।’
সমালোচনার বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশে পাঁচ হাজার কাউন্সিলরের মধ্যে এমন হাজারখানেক আছেন, যাঁরা আওয়ামী লীগের নন, স্বতন্ত্র। আমাদের আহ্বানটা তাঁদের প্রতি, যাঁরা সরাসরি শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলনে ছিলেন। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, যে মানুষগুলো জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত, কিন্তু আওয়ামী লীগ নন, যারা স্বতন্ত্র, তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা হবে।’
অপসারিত কাউন্সিলরদের অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও। সংগঠনের সদস্যসচিব আরিফ সোহেল ফেসবুকে লিখেছেন, কাউন্সিলরদের সভায় শুধু বিএনপি জামায়াত সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা (তাদের অনেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কৃত) ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু তাতে করে এই সভা ত্রুটিমুক্ত হয়ে যায় না। আওয়ামী আমলে আয়োজিত কোনো নির্বাচনকে বৈধতা জান থাকতে দেওয়া হবে না।’ সাংগঠনিক আলাপ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাজনীতি করা বন্ধ করতে নেতাদের প্রতি আহ্বানও জানান আরিফ।


