ছাত্র নেতৃত্বের সব সিদ্ধান্তে আগের মতো করছে না বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল। এ কারণে আওয়ামী লীগ এবং সমর্থক দলগুলোকে নিষিদ্ধ চেয়ে করা রিট এক দিনের মধ্যে প্রত্যাহার হয়। জাতীয় পার্টি (জাপা) কার্যালয়ে হামলার সরাসরি নিন্দা না করলেও বিএনপিসহ অন্যান্য দল প্রকাশ্যে বিরক্তি দেখায়। ছাত্র নেতৃত্বের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’র সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে সায় নেই সরকারের। অনেকে মনে করেন, রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে বলে বিএনপি কারণ দেখালেও দলটির আশঙ্কা ছিল ড. ইউনূস নিজেই রাষ্ট্রপতি হলে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার দিকে যেতে পারে দেশ।
বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতির প্রতি বিএনপির কোনো সহানুভূতি নেই। বিএনপি ক্ষমতায় গিয়েই তাঁকে সরাবে। কিন্তু ছাত্ররা তাঁকে যেভাবে সরাতে চেয়েছিলেন, সেটি হলে তারা রাষ্ট্রের সর্বেসর্বায় পরিণত হতেন, বিএনপি তা থামিয়েছে। এর মাধ্যমে বিএনপি ছাত্র নেতৃত্বকে নিজের শক্তি ও অবস্থান বোঝাতে সক্ষম হয়েছে।’ আগামী সরকারে ও সংসদে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আওয়ামী লীগবিরোধী ছোট দলগুলোকে পাশে টেনেছে বিএনপি। গণঅধিকার পরিষদের একাংশ ছাড়া ছাত্র নেতৃত্বের দাবির সঙ্গে অন্য কোনো দলকে তাই সরাসরি একাত্ম হতে দেখা যায়নি। ছাত্র নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবি পার্টিও রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে আইনি পথ দেখিয়েছে।
ড. ইউনূসের সরকার বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে শপথ নিলেও একে মুজিববাদী একটি দলের প্রণীত সংবিধান আখ্যা দিয়ে বাতিল করতে চাইছে ছাত্র নেতৃত্ব। সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট, সংবিধান বাতিলে সায় নেই দলটির। তিনি বলেছেন, ‘সংস্কার মানে বইয়ের কয়েক লাইন পরিবর্তন নয়।
‘জামায়াতসহ কয়েকটি দল সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচন প্রস্তাব করলেও বিএনপি এতে রাজি নয়। বিদ্যমান আসনভিত্তিক নির্বাচন চায় দলটি। ছাত্র নেতৃত্ব এখনও স্পষ্ট করেনি তারা কী চায়। তবে সূত্রের খবর, তারাও আনুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচনের কথা ভাবছে।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটিকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের উদ্যোগে খুব একটা গতি দেখা যাচ্ছে না। তবে যেমন সাড়া সংগঠন দুটি আশা করেছিল, তা পাওয়া যায়নি। তাদের কর্মসূচিতে আগের তুলনায় উপস্থিতি কম দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন না পেলেও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, অভ্যুত্থানে সরব থাকা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকি ভট্টাচার্যসহ অনেকেই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রশ্নে ছাত্র নেতৃত্বকে সমর্থন করছেন। তবে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের অনেকে একে বিভেদ সৃষ্টিকারী আখ্যা দিয়ে বিরোধিতাও করছেন।


