প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ পাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর সেই আগ্রহের সূত্র ধরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে খনিজ সম্পদ দিতে রাজি। তবে বিনিময়ে ওয়াশিংটনকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধেও রাজি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত শুক্রবার রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সে সময় তিনি ইউক্রেনের একটি গোপন মানচিত্রের ওপর দৃষ্টিপাত করেন। মানচিত্রটিতে ইউক্রেনের বিরল মৃত্তিকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিশাল মজুত চিহ্নিত করা হয়েছে বিশ্লেষকেরা বলছেন, জেলেনস্কির এই প্রচেষ্টা মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসায়িক মনোভাবকে আকর্ষণ করার লক্ষ্যে।
গত বছরের মাঝামাঝি ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ক্ষেত্রগুলোতে মিত্রদের বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার ধারণা উপস্থাপন করেছিল। সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের খনিজ সম্পদগুলোর ২০ শতাংশের কম বর্তমানে রাশিয়ার দখলে। বিরল মৃত্তিকা খনিজগুলো উচ্চ শক্তির চৌম্বক, বৈদ্যুতিক মোটর এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য ইলেকট্রনিকসের উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ। জেলেনস্কি বলেন, মস্কো এই খনিজগুলো তার মিত্র উত্তর কোরিয়া এবং ইরানকে দিতে পারে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তাঁর দেশে ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে টাইটানিয়াম মজুত রয়েছে। এই টাইটানিয়াম বিমান ও মহাকাশ শিল্পে অপরিহার্য। এ ছাড়া পারমাণবিক শক্তি ও অস্ত্র উৎপাদনে ব্যবহৃত ইউরেনিয়ামেরও বিশাল মজুত আছে। রাশিয়ার দখলে থাকা অঞ্চল ছাড়াও ইউক্রেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিপুল টাইটানিয়ামের মজুত আছে বলেও জানান জেলেনস্কি। ইউক্রেন দ্রুত পররাষ্ট্রনীতি পুনর্নির্ধারণ করেছে। যাতে দেশটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সংগতি বজায় রাখতে পারে। তবে জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, কিয়েভ ‘তার সম্পদ অন্যকে দিয়ে দেবে’ এমন কোনো প্রস্তাবনা দেয়নি, বরং একটি পারস্পরিক সুবিধাজনক অংশীদারত্বের প্রস্তাব দিচ্ছে, যাতে এই সম্পদগুলোকে যৌথভাবে ব্যবহার করা যায়।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমেরিকানরা সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে এবং তাই আমেরিকানদের সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা উচিত এই খাত থেকে। তাদের এই অগ্রাধিকার থাকতে হবে এবং তা থাকবে। আমি এই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই।’ জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ এবং হোয়াইট হাউস ইউক্রেনের বিশাল ভূগর্ভস্থ গ্যাস স্টোরেজ সাইটগুলো ব্যবহার করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সংরক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি যে, ট্রাম্প প্রশাসন এতে খুব আগ্রহী… আমরা প্রস্তুত এবং ইচ্ছুক ইউক্রেনের জন্য চুক্তি করতে। অবশ্যই, আমরা ইউরোপের জন্য একটি হাব হতে পারব।’


