ইসলাম প্রচারের কাজ করা তাবলিগ জামাতের বিরোধ ৯ বছরে নিরসন না হয়ে রক্তাক্ত হয়েছে। দু’পক্ষের ভাষ্যে বিরোধের কারণও ভিন্ন। মাওলানা জুবায়েরপন্থি হিসেবে পরিচিতরা বলছেন, ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির ইসলাম পরিপন্থি বক্তব্যের কারণেই বিরোধ। আবার মাওলানা সাদের অনুসারীরা বলছেন, ঐতিহ্য ভেঙে আমিরের পরিবর্তে শূরায়ে নেজামের (পরামর্শ সভা) মাধ্যমে তাবলিগ পরিচালনা নিয়েই মূল বিরোধ।
ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিনে ১৯২৫ সালে তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভি। তিনি ছিলেন জামাতের আমির। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে ইউসুফ কান্ধলভি আমির হন। সাদ কান্ধলভি তাঁর নাতি। মাওলানা সাদ ২০১৬ সালে অভিমতে জানান, ইসলাম শিক্ষার বিনিময়ে টাকা নেওয়া জায়েজ নয়। এ বক্তব্যকে ইসলামবিরোধী বলছেন দেওবন্দ দারুল উলুমকে অনুসরণ করা বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো। সাদপন্থিদের ভাষ্য, কওমি মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ হেফাজতে ইসলামের নেতাদের হাতে। তারা ইসলামী শিক্ষা দিয়ে, ওয়াজ করে টাকা নেন। এ কারণেই সাদ কান্ধলভির বক্তব্যকে মানতে পারছেন না তারা।
বাংলাদেশে তাবলিগ জামাত নিয়ন্ত্রিত হয় কাকরাইল মসজিদ থেকে। দেওবন্দের মতো এর খতিব মাওলানা জুবায়ের আহমদও সাদ কান্ধলভির বক্তব্যের বিরোধী। হেফাজত নেতারা মাওলানা জুবায়েরের মতের সমর্থক। তারা বলছেন, সাদ কান্ধলভিকে তওবা করতে হবে। এ বিরোধিতায় তিনি ২০১৮ সাল থেকে ইজতেমায় আসতে পারছেন না।


