ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন- ‘বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যমের একাংশ, যাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা ছিল, তারা কর্তৃত্ববাদী চর্চাকে উৎসাহিত করতে জড়িত ছিল।’ ড. ইফতেখার বলেন, ‘গত ১৬ বছরে কর্তৃত্ববাদ চরমে পৌঁছে গিয়েছিল। সমস্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে করায়ত্ত করে তাঁদের রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছিল। পেশাজীবীদের অঙ্গনে দেউলিয়াত্ব সৃষ্টি করা হয়েছিল, যার অন্যতম শিকার ছিল এই বিচার বিভাগ। দুঃখজনকভাবে বিচার বিভাগ কর্তৃত্ববাদ প্রসারণে অনুঘটকের কাজ করেছিল।’
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এমনকি গণমাধ্যমের একটি অংশও একই ভূমিকা পালন করেছে, কারণ তারা কর্তৃত্ববাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে অযাচিত সুবিধা গ্রহণ করেছিল। তবে এখানে অবশ্য একটি মিশ্র পরিস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যম শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তার যথার্থ ভূমিকা পালনের চেষ্টা করেছে। এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়।’ তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। গণমাধ্যম অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বিচার বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে অনুঘটকের মত দায়িত্ব পালন করতে পারে।’
ড. ইফতেখার বলেন, ‘বিভিন্ন খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করে অনেক ধরনের সংস্কার কার্যক্রম চলছে। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত, শুধুমাত্র প্রণীত প্রতিবেদন অনুযায়ী সংস্কারের কোনো সুফল আমরা পাব না।’ টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান শনিবার আইনবিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব মত প্রকাশ করেন।


