তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট চেক উদ্যোগ ডিসমিসল্যাবের একটি গবেষণা প্রতিবেদন বলছে — বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ফেক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে রাজনৈতিক প্রচার চলছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতার নামে কুৎসা রটানো, অপপ্রচার ও ভাবমূর্তির ক্ষতি করার চেষ্টাও চলছে।
ডিসমিসল্যাব তাদের গবেষণায় গত ১৮ থেকে ২৮ জুন সময়ে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপ থেকে ৭০টি ভিডিও সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেছে। এআই দিয়ে তৈরি রাজনৈতিক এসব ভিডিও বিশ্লেষণে তারা দেখেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উল্লেখ করা হয়নি যে এগুলো এআই দিয়ে তৈরি। ভিডিওগুলো অনেকটা নিখুঁত। ফলে মানুষের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ভিডিও দিয়ে ব্যাপকভাবে অপপ্রচার ও কুৎসা রটানোর ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ, এ দেশে নিয়মনীতির শিথিলতা রয়েছে। এ ধরনের ভিডিও সহিংসতাও উসকে দিতে পারে।
ডিসমিসল্যাবের বিশ্লেষণ করা ভিডিওগুলো ২ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে (ভিউ)। ভিডিওগুলোতে ব্যবহারকারীরা রিঅ্যাকশন (প্রতিক্রিয়া) দিয়েছেন ১০ লাখের বেশি। ডিসমিসল্যাব তাদের গবেষণায় বলছে, প্রতিটি ভিডিও গড়ে প্রায় ৩ লাখ ২৮ হাজারবার দেখা হয়েছে এবং গড়ে ১৭ হাজার রিঅ্যাকশন পেয়েছে, যা এসব আধেয়র (কনটেন্ট) বিস্তার ও প্রভাব সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে ভিডিওগুলোকে ‘সফটফেকের’ কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মানে হলো, এতে কৃত্রিমভাবে সাধারণ মানুষের অবয়ব ও কণ্ঠস্বর তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে ‘ডিপফেক’ হলো একজন ব্যক্তির অবিকল অবয়ব ও কণ্ঠস্বর দিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি করা।
ভিডিওগুলোর বেশির ভাগই তৈরি করা হয়েছে সার্চ ইঞ্জিন গুগলের নতুন ভিডিও জেনারেশন টুল ভিইও-৩ ব্যবহার করে, যা ২০২৫ সালের মে মাসে চালু হয়। ডিসমিসল্যাব বলছে–বিকৃত মুখাবয়ব, অস্বাভাবিক কণ্ঠস্বর ইত্যাদি কারণে আগে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওগুলো সহজেই শনাক্ত করা যেত। কিন্তু ভিইও-৩ দিয়ে তৈরি এআই ভিডিও সহজে শনাক্ত করা যায় না।
ডিসমিসল্যাবের গবেষণায় বলা হয়েছে, তাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে এআই দিয়ে ভিডিও তৈরি করে প্রচার সবার আগে শুরু করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকেরা। জামায়াতের সমর্থনে বেশ কিছু ভিডিও আসার পর বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলের সমর্থকেরাও এআই দিয়ে ভিডিও তৈরি করে প্রচার করতে শুরু করেন। এমনকি কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায়ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের এ ধরনের ভিডিও ছড়াতে দেখা গেছে।
ফেসবুকের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার নীতিমালা অনুযায়ী, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে উপযুক্ত লেবেল (এআই দিয়ে তৈরি উল্লেখ করে চিহ্ন) থাকার কথা। ডিসমিসল্যাবের বিশ্লেষণ করা ৭০টি ভিডিওর একটিতেও তা ছিল না। মেটার অ্যালগরিদমও (স্বয়ংক্রিয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা) ভিডিওগুলো শনাক্ত করতে পারেনি।


