পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের জন্য কেবল ত্যাগের মহিমাই নয়, আনন্দ, উৎসব ও সম্প্রীতির এক অনন্য সময়। এই সময় বাড়িতে বাড়িতে কোরবানির মাংস রান্না হয়, আতিথেয়তার বন্যা বয়ে যায়। তবে এই আনন্দ যেন অতি খাওয়া বা অসচেতন খাদ্যাভ্যাসের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক হওয়াও জরুরি।
ঈদের সময় আমরা অনেকেই দিনে একাধিকবার মাংস খাই এবং সাধারণত তেল-ঝাল-মসলা দেওয়া রান্নাই প্রাধান্য পায়। অথচ একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের দৈনিক মাত্র ৫০–৭৫ গ্রাম রান্না করা লাল মাংসই যথেষ্ট। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস, বেশি তেল-মসলা, কিংবা ভাজাপোড়া খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে, দেখা দিতে পারে গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা।
চিকিৎসক ডা. গুলজার হোসেন মনে করিয়ে দেন, ঈদের মাংস খাওয়া হোক ‘স্মার্ট ও স্বাস্থ্যসম্মত’। তার পরামর্শ অনুযায়ী, মাংসের গায়ে থাকা দৃশ্যমান চর্বি রান্নার আগে কেটে বাদ দেওয়া জরুরি। রান্নায় কম তেল ও মসলা ব্যবহার করলে তা হজমে সহায়ক হয়। মাংসের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে সবজি খেলে খাবারের ভারসাম্য বজায় থাকে, হজমও সহজ হয়।
বিশেষ করে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে। চর্বিহীন গ্রিলড বা সেদ্ধ মাংস তাদের জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।
মাংস সংরক্ষণের দিকেও থাকতে হবে সতর্কতা। মাংস ভালোভাবে ধুয়ে, পানি ঝরিয়ে, জীবাণুমুক্ত প্যাকেটে দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখতে হবে। রান্নার আগে মাংস ভালোভাবে গরম করা ও রান্নার সময় হাত, ছুরি ও কাটার বোর্ড পরিষ্কার রাখা অপরিহার্য।
ঈদের সময় রিচ ফুড খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিক বা হজমজনিত সমস্যা থেকে রেহাই পেতে হলে লেবুপানি, টক দই, ইসবগুলের ভুষি, অথবা জিরা-আদা-পুদিনা পানীয় খাওয়া যেতে পারে। বেশি খাওয়ার বদলে ছোট ছোট ভাগে দিনে কয়েকবার খাওয়ার অভ্যাস করলে পেট থাকবে হালকা, ঈদের আনন্দও থাকবে অটুট।


