গত দুই দশকে টাচ স্ক্রিন ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক্স থেকে গাড়ি পর্যন্ত আমাদের গ্যাজেটে শেষ কথা হয়ে উঠেছে। কিন্তু পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে এখানে। ফিজিক্যাল কন্ট্রোল – যেমন বোতাম, নব এবং স্লাইডার ইত্যাদি ফিরে আসছে।
গাড়ির ক্ষেত্রে, কিয়া, বিএমডব্লিউ, এবং ভকসওয়াগনের মতো ব্র্যান্ডগুলো টেসলার জনপ্রিয় টাচ স্ক্রিন-ভিত্তিক ডিজাইন থেকে সরে এসে ফিজিক্যাল বোতাম চালু করছে। ই-রিডার এবং ইন্ডাকশন স্টোভের মতো পণ্যগুলিতেও এখন এটা একটা ট্রেন্ড। ভোক্তা এবং সমালোচক সবাই ফিজিক্যাল কন্ট্রোলের প্রত্যাবর্তনকে রীতিমত উদযাপন করছেন।
পরিবর্তনের সামনের দিকে আছে অ্যাপল, যে কোম্পানি একসময় টাচ স্ক্রিনের দিকে বিশ্বকে ঠেলে দিয়েছিল। তাদের নতুন আইফোন ১৬ সিরিজে, প্রো অথবা নন-প্রো সব মডেলেই একটি ‘অ্যাকশন বোতাম’ আছে সেটি আইফোন ১৫ সিরিজে শুধু প্রো মডেলগুলোতে ছিলো ও এই আপডেটগুলো আগের বছরগুলিতে অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা এবং অন্যান্য পণ্যে ছিল। কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র বোতাম ফিরিয়ে আনছে না, বরং সেগুলোকে নতুন চেহারা দিচ্ছে, টাচ বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য কার্যকারিতা যোগ করছে যাতে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দারুন হয়।
টাচ স্ক্রিনের অসুবিধা নিয়ে আলাপ চলছিল। কোম্পানিগুলো এই অভিযোগ গুলোকে মাথায় রেখে ডিজাইনে বদল আনছে। টাচ স্ক্রিন ইন্টারফেসগুলো প্রায়শই ভিজ্যুয়াল ফোকাস দাবী করে, যা গাড়ির মতো ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, যেখানে চালকদের রাস্তায় নজর না রেখে অপারেশন করতে হয়। শারীরিক বোতামগুলো ভিজ্যুয়াল বিভ্রান্তি ছাড়াই ভালো নিয়ন্ত্রণ দেয়, যা কার্যকর এবং ব্যবহারও সুবিধার। এমনকি কিছু নিয়ন্ত্রক সংস্থা গাড়ির কয়েকটি ফিচারের জন্য শারীরিক নিয়ন্ত্রণ বাধ্যতামূলক করেছে নিরাপত্তাকে প্রাধ্যন্য দিয়ে।
ফিজিক্যাল কন্ট্রোল শুধু ব্যবহারিক কারণেই ফিরে আসছে তা না। কিছুদিন ধরেই মানুষ সেকেলের ভাগাড়ে চলে যাওয়া রুচি, রং, পছন্দ, সুর আর আসবাবের দিকে ফিরে তাকাচ্ছে। এটাই হয়ত নয়া নন্দন। একসময় অত্যাধুনিক হিসাবে বিবেচিত টাচ স্ক্রিনগুলো এখন কম প্রিমিয়াম বলে মনে হচ্ছে। স্পর্শের মাধ্যমে বোতাম টিপে কাজ করার আনন্দ এবং কার্যকারিতা ডিজিটাল বিশ্বের বিভিন্ন শিল্পে আবার আবিষ্কৃত হচ্ছে। মানুষের পছন্দের চাকা এভাবেই ঘোরে।


