জাতিসংঘ আবারও ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং একাধিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে। শনিবার থেকে এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি অভিযোগ করেছে ইরান ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। ওই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া থামানো। তবে ইরান বারবার অস্বীকার করে বলেছে, তাদের লক্ষ্য কেবল শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি উৎপাদন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, তেহরান ‘এর কঠোর জবাব’ দেবে, তবে দেশটি পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বের হবে না। ইতিমধ্যেই তারা ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে।
ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়াও এই নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলে দাবি করেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জাতিসংঘ মহাসচিবকে সতর্ক করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ একটি বড় ধরনের ভুল হবে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের জন্য আবারও অস্ত্র আমদানি-রফতানি নিষিদ্ধ হবে। এছাড়া ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট যে কোনো কার্যক্রমে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়াও নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দের নির্দেশও কার্যকর হবে।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতিমধ্যেই ইরানি অর্থনীতিতে দেখা গেছে। ইরানের মুদ্রা রিয়াল নতুন করে রেকর্ড পতনের মুখে পড়েছে। শনিবার এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়াল নেমে দাঁড়ায় ১১,২৩,০০০-এ, যা একদিন আগে ছিল প্রায় ১০,৮৫,০০০।
ইউরোপীয় শক্তিগুলো বলছে, নিষেধাজ্ঞা মানে কূটনীতির ইতি নয়। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল মানেই আলোচনার সুযোগ বন্ধ নয়। আমরা কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনও খোলা রাখতে চাই।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো আলোচনার পক্ষপাতী, তবে ইরানকে সরাসরি এবং সৎভাবে আলোচনায় বসতে হবে। ততদিন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আর্থিক ও কূটনৈতিকভাবে চাপের মুখে ইরানকে সতর্ক করে বলা হচ্ছে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক স্থিতিশীলতার জন্য তারা কূটনৈতিক পথে সহযোদ্ধা হবে কি না।


