ইমোজির উৎপত্তি হয় ১৯৯০-এর শেষের দিকে জাপানে। ইন্টারফেস ডিজাইনার শিগেতাকা কুরিতা জাপানি টেলিযোগাযোেগ কোম্পানি ডোকোমোর একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে এক সেট ইমোজি তৈরী করেন। প্রাথমিকভাবে, কুরিতা ১২X১২-পিক্সেলের ১৭৬টি সাধারণ প্রতীক বা চিহ্ন তৈরি করেন, যা আবেগ, আবহাওয়া এবং দৈনন্দিন জিনিসপত্রকে প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হতো। এই ইমোজিগুলো তৈরির মূল উদ্দেশ্য ছিলো মোবাইল যোগাযোগের অভিজ্ঞতাকে আরও উপভোগ্য করা এবং টেক্সট মেসেজের সীমিত স্পেসের আরও কার্যকর ব্যবহার করা। এই ইমোজি সৃষ্টির মূল অনুপ্রেরণা আসে পিষ্টোগ্রাম এবং জাপানি মাঙ্গা থেকে, যেখানে বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করে আবেগ ও ক্রিয়াকলাপ প্রকাশ করা হয়।
ইমোজি জাপানে দ্রুত জনপ্রিয় হয় এবং সাফল্যের ফলে বিশ্বব্যাপী মোবাইল প্রযুক্তির অংশ হয়ে ওঠে। তবে ইমোজির বিবর্তনে বড় পরিবর্তনটি আসে ২০১০ সালে, যখন ইউনিকোড তাদের টেক্সট এনকোডিংয়ের স্ট্যান্ডার্ড কাঠামোর ভিতরে ইমোজি চরিত্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। এই স্ট্যান্ডার্ডাইজেশনের ফলে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এবং ডিভাইসে ইমোজির সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিসপ্লে সম্ভব হয়, আর এই পরিবর্তনটা ইমোজিকে বিশ্বজুড়ে দুর্দান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দেয়। এরপর সময়ের সাথে সাথে ইমোজিতে নানান ধরণের পরিবর্তন আসতে থাকে। যেমন বিভিন্ন স্কিন কালারের ইমোজি, লিঙ্গভিত্তিক ইমোজি, সংস্কৃতিভিত্তিক ইমোজি এবং আরো কত কি।
অনেকেই আছেন ইমোজির অনেক ব্যবহার করেন আবার কেউ হয়তো একটু কম করেন, কেউ আবার ইমোজির ব্যবহার একদমই পছন্দ করেন না। ইমোজি ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা দুটিই আছে। ইতিবাচক দিকগুলির মধ্যে রয়েছে, ইমোজিগুলো আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশে সাহায্য করে যা শুধুমাত্র লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করা অনেক সময় বেশ কঠিন, বিশেষত ক্যাজুয়াল ডিজিটাল কথোপকথনে যেখানে অ-মৌখিক সংকেত (non-verbal cues) যেমন মুখভঙ্গি (facial expression) অনুপস্থিত। ইমোজি ক্ষেত্রবিশেষে কথার অর্থ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং লেখার অস্পষ্টতা কমায়। ইমোজির ভিজ্যুয়াল প্রতীক ভাষার সীমানা পেরিয়ে সর্বজনীন যোগাযোগের সুযোগ দেয়।
ইমোজির সব যে ভালো তা নয়। সমালোচকরা বলেন যে ইমোজি যোগাযোগকে নেতিবাচকভাবে সরলীকৃত করে। তারা বলেন, কষ্ট কমাতে আর আলসেমির কারণে আমরা জটিল ভাষার পরিবর্তে শর্টকাটে সাধারণ প্রতীকের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করি, যার ফলে ভাষার গভীরতা কমে যায়। তদুপরি, ব্যক্তিবিশেষে সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণে একই ইমোজিকে একেকজন ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে, যার ফলে অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি হওয়াও সম্ভব। আরো বলা হয় যে ইমোজির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা লেখার দক্ষতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।


