যুক্তরাজ্যে এবছর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলের মৌসুম দেখা দিয়েছে, যার ফলে গোটা বাস্তুতন্ত্র ধ্বংসের মুখে পড়েছে এবং বহু বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংস্থাগুলো। ওয়েলসের পাওইস অঞ্চলের অ্যাবারগুইসিন কমন এলাকার প্রায় ১,৬০০ হেক্টর জমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এটি একটি ‘বিশেষ বৈজ্ঞানিক গুরুত্বসম্পন্ন এলাকা’ (SSSI) হিসেবে স্বীকৃত এবং এই এলাকাটিই ছিল Golden Plover নামের এক বিরল ও সুরক্ষিত জলাভূমি পাখির শেষ আশ্রয়স্থল। ন্যাশনাল ট্রাস্টের রেঞ্জাররা আশঙ্কা করছেন, এই আগুনের ফলে পাখিটি হয়তো এখন পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ন্যাশনাল ট্রাস্টের মিড ও সাউথ ওয়েলস-এর কান্ট্রিসাইড ম্যানেজার ক্রিস স্মিথ জানান, “দাবানলের প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে পাখির বাসা, পোকামাকড়, উভচর এবং সরীসৃপ সবই পুড়ে গেছে। সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এর প্রভাব দীর্ঘকাল স্থায়ী হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে যেসব পিট বগ বা জলাভূমি পুনরুদ্ধার করছিলাম, সেই অঞ্চলগুলো এখন আগুন ও কার্বন ক্ষয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক জায়গায় পিট-মাটির স্তর পর্যন্ত পুড়ে গেছে, যা পুনরুদ্ধারে শত শত বছর লেগে যেতে পারে।” ২০২৪ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস ৩৪টি দাবানলের ঘটনা মোকাবিলা করেছিল। ২০২৫ সালে একই সময়ের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৫-এ, যা ১,২০০% বৃদ্ধি। পুরো ওয়েলস জুড়ে তিনটি ফায়ার সার্ভিস এ বছর ইতিমধ্যেই ১,৩০০-এর বেশি ঘাসের আগুনের ঘটনায় সাড়া দিয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের মর্ন পর্বতমালায় দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছোট হিথ প্রজাপতি, রোভ বিটল, স্কাইলার্ক এবং পেরিগ্রিন ফ্যালকন প্রজাতির পাখির আবাসভূমি। এসব ছোট পাখি পোকামাকড় খেয়ে বাঁচে এবং নিজেরাও শিকার হয় বৃহত্তর শিকারি পাখিদের। পিক ডিস্ট্রিক্টে হাওডেন মোর অঞ্চলে ২ কিলোমিটার জুড়ে দাবানলে ৩০,০০০ ইউরো মূল্যের সংরক্ষণ কার্যক্রম ধ্বংস হয়েছে বলে জানায় ন্যাশনাল ট্রাস্ট। ন্যাশনাল ট্রাস্ট এখন তাদের ভূদৃশ্যকে বেশি আর্দ্র ও জলাভূমিমুখী করে তুলছে। এর অংশ হিসেবে তারা পানি ধারণক্ষম বিশেষ মস এবং প্রাকৃতিক জলাধান তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে দাবানলের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃতি সংরক্ষণ প্রধান বেন ম্যাকার্থি বলেন, “দেশে তৃণভূমির দাবানল ও অন্যান্য জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।” এর আগে ন্যাশনাল ফায়ার চিফস কাউন্সিল জানিয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সেবাদান সক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই বিনিয়োগ দরকার। তারা জানায়, শুধু ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেই ২০২২ সালের তুলনায় ১০০টিরও বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে।


