ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বৈদেশিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডিকে পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা করছে। সোমবার সংস্থাটির ওয়াশিংটন সদর দপ্তরে কর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজেকে ইউএসএআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ঘোষণা করে জানিয়েছেন, সংস্থার কার্যক্রম চালু থাকবে, তবে তা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। তবে ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এর ফলে আন্তর্জাতিক দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব কমে যাবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ধনকুবের ইলন মাস্ক ইউএসএআইডির সমালোচনায় সরব। ট্রাম্প সংস্থাটিকে ‘র্যাডিকাল বামদের পরিচালিত দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান’ বলে দাবি করেছেন, যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি। মাস্ক, যিনি ট্রাম্পের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ নামক ব্যয় সংকোচন টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, ইউএসএআইডি বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে সোচ্চার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি সংস্থাটিকে ‘অপরাধমূলক সংগঠন’ ও ‘বামপন্থী ষড়যন্ত্রের অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন।এই একীভূতকরণের বাস্তবায়ন কবে এবং কীভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশটির কূটনৈতিক ও মানবিক ভূমিকার ওপর প্রভাব ফেলবে।
ইউএসএআইডি হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় একক দাতা সংস্থা। বিশ্বব্যাপী এই সংস্থার প্রায় ১০,০০০ কর্মী রয়েছেন। ২০২৩ সালে ওয়াশিংটন ১৮০টিরও বেশি দেশে মোট ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি সহায়তা (৬৪ বিলিয়ন অর্থনৈতিক ও ৮.৩ বিলিয়ন সামরিক সহায়তা) দিয়েছে। আর এর অর্ধেকের বেশি সহায়তা দিয়েছে ইউএসএআইডি-এর মাধ্যমে। ২০২৪ সালে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী মোট মানবিক সহায়তার ৪২ শতাংশ দিয়েছে দেশটি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, এই সংস্থার কার্যক্রমের মাধ্যমে মার্কিন সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে। ফলে ক্ষমতাগ্রহণের পরপরই তিনি তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে ইউএসএআইডি সহ বিদেশে সব ধরনের মার্কিন সহায়তা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদেশি সহায়তা প্রদানকারী দেশ। যদিও এর মোট ব্যয়ের এক শতাংশেরও কম সহায়তার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং কিছু দেশ তাদের বাজেটের তুলনায় বেশি সহায়তাই দিয়ে থাকে।


