সম্প্রতি “দ্য জার্নাল অফ নিউট্রিশন”-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, নিয়মিত ডিম খাওয়া আলঝাইমার ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। রাশ মেমরি এবং এজিং প্রজেক্টের উপর ভিত্তি করে করা এই গবেষণাটি ডিমের সম্ভাব্য মস্তিষ্ক সম্পর্কিত উপকারিতা তুলে ধরে, বিশেষ করে এর কোলিন উপাদানের কারণে। গবেষকরা ১,০২৪ জন অংশগ্রহণকারীর ডেটা বিশ্লেষণ করেছেন, যাদের গড় বয়স ছিল ৮১ বছর এবং এই গবেষণা চলেছিল ৬.৭ বছর ধরে। তারা দেখতে পেয়েছেন যারা এক সপ্তাহে একটির বেশি ডিম খেয়েছেন, তাদের আলঝাইমার ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি যারা কম ডিম খেতেন তাদের তুলনায় ৪৭ শতাংশ কম ছিল।
কগনিটিভ অবনতির উপর মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি, গবেষণায় ৫৭৮ জন মৃত অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্কের ময়না তদন্তও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ময়না তদন্তে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ডিম খেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে আলঝাইমার রোগ সম্পর্কিত প্যাথলজি কম ছিল। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ডিম মস্তিষ্কে রক্ষাকারী প্রভাব ফেলতে পারে সাথে আলঝাইমার সম্পর্কিত পরিবর্তনগুলোর বিকাশ ধীর করে।অতিরিক্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, ডিম খাওয়ার রক্ষাকারী প্রভাবের ৩৯ শতাংশ কোলিন দ্বারা প্রভাবিত, যা ডিমে পাওয়া একটি পুষ্টি উপাদান এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোলিন নিউরোট্রান্সমিটার উৎপাদনে সহায়ক। বিশেষ করে অ্যাসিটাইলকোলিন স্মৃতি এবং কগনিটিভ প্রসেসিংয়ের জন্য অপরিহার্য। এটি মস্তিষ্কের কোষের ঝিল্লির কাঠামোগত অখণ্ডতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আগের গবেষণাগুলিতে কোলিনের গ্রহণকে উন্নত কগনিটিভ ফাংশনের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এই গবেষণাটি ডিমে থাকা কোলিন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য লাভের সম্ভাব্য সুবিধা সমর্থন করে। বিশ্বব্যাপী আলঝাইমার রোগ একটি প্রধান ডিমেনশিয়ার কারণ হওয়ায়, এই ফলাফলগুলি কগনিটিভ বার্ধক্যে খাদ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে। যদিও জেনেটিক এবং জীবনধারা সম্পর্কিত ফ্যাক্টরগুলি আলঝাইমারের ঝুঁকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন একটি সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ডিম ছাড়াও অন্যান্য মস্তিষ্ক-উত্তেজক খাবার যেমন শাক-সবজি, বাদাম, এবং তৈলাক্ত মাছ কগনিটিভদীর্ঘজীবিতাকে সমর্থন করতে সহায়ক হতে পারে। তবে সরাসরি কারণ প্রতিষ্ঠা এবং আলঝাইমার প্রতিরোধের জন্য আদর্শ খাদ্য পরামর্শ নির্ধারণে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
এই গবেষণাটি নিয়মিত ডিম খাওয়ার মস্তিষ্ক-রক্ষাকারী উপকারিতাগুলির সম্ভাবনা তুলে ধরে, বিশেষ করে কোলিনের স্তরের মাধ্যমে এর প্রভাবের উপর। যেহেতু আলঝাইমার একটি প্রধান পাবলিক হেলথ চ্যালেঞ্জ, তাই খাদ্যাভ্যাসের মতো সহজ কিন্তু কার্যকরী কৌশল মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সমর্থন করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে ব্যক্তি বিশেষের স্বাস্থ্য চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য নির্বাচন পরামর্শ দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে পরামর্শ করা উচিত।


