জুলাই গণহত্যা, গুম, খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত নন, এমন আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষমা চাইলে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেতে পারেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর প্রস্তাবে এ রকম চিন্তাভাবনাই করছে অন্তর্বর্তী সরকার। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারাও অপরাধী নন, এমন নেতাকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিতে ‘রিডিম এবং রিকনসিলিয়েশন’- এ রাজি। তবে সন্দেহ ও আপত্তি রয়েছে বিএনপির তরফ থেকে। দলটি ছাত্রনেতাদের এ চাওয়াকে নতুন দল গঠনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছে। জামায়াতের ভাষ্য, আগে দায়ীদের চিহ্নিত ও বিচার করা হোক; তারপর ক্ষমার চিন্তা হতে পারে।
একাধিক ছাত্রনেতা সমকালকে বলেন, অপকর্মের অভিযোগ নেই এমন নেতাদের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে ক্ষমা চাওয়া অংশকে অবশ্যই শেখ হাসিনা এবং তাঁর অনুগতদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখতে হবে। একাধিক রাজনৈতিক সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, ক্ষমার সুযোগ দিয়ে আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করার চেষ্টা রয়েছে। যারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকবে, তারা হবে একটি দল। যারা ১৫ বছরের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইবে, তারা হবে আরেকটি দল। ক্ষমা চাওয়া অংশের রাজনীতিতে ও নির্বাচনে অংশ নিতেও বাধা থাকবে না।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া গত মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগ করেছেন, কিন্তু কোনো অন্যায় এবং গণহত্যা কিংবা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, তারা ক্ষমা চেয়ে আবার মূলধারায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারেন।’ বুধবার বলেন, ‘…এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে স্বচ্ছ, উন্মুক্তভাবে এবং ধাপে ধাপে। ট্রুথ কমিশন কিংবা বিশ্বের যেসব নজির রয়েছে তা অনুসরণ করে।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের অবসানের পর জাতীয় ঐক্যের জন্য নোবেলজয়ী ডেসমন্ড টুটুর নেতৃত্বে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ সত্য এবং অনুশোচনা প্রকাশের কারণে কমিশন ৮৪৯ জনকে ক্ষমা করে। ছাত্রনেতারা প্রায়ই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন। তবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে শেখ হাসিনাকে মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ না করার কথা বলেছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারাও অপরাধী নন, এমন নেতাকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিতে ‘রিডিম এবং রিকনসিলিয়েশন’- এ রাজি তবে সন্দেহ ও আপত্তি রয়েছে বিএনপির তরফ থেকে। দলটি ছাত্রনেতাদের এ চাওয়াকে নতুন দল গঠনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছে। জামায়াতের ভাষ্য, আগে দায়ীদের চিহ্নিত ও বিচার করা হোক; তারপর ক্ষমার চিন্তা হতে পারে।


