‘র্যাপিড মার্কেট মনিটর’ শিরোনামে ডব্লিউএফপির গবেষণায় উঠে এসেছে, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ব্যবসা ব্যাহত হওয়ায় মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ১৪.১% ছুঁয়েছিল। এ ছাড়া, দেশে বন্যার কারণে গত জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে খাদ্য নিরাপত্তার অবনতি হয়েছে। ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক ডব্লিউএফপির আরেক প্রতিবেদন অনুসারে, গত আগস্টে প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে ৩টি পরিবার পর্যাপ্ত খাবার খেতে পারেনি। কম আয়ের পরিবারের কথা বিবেচনা করলে, প্রতি ১০টি পরিবারে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬টিতে। কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।
মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ খাবার সব আয়ের মানুষের মধ্যে কম। পরিবারগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশের খাবারে আয়রন ও আমিষের পরিমাণ কম। ঝুঁকিতে থাকা বেশির ভাগ পরিবার খাদ্য নিরাপত্তা মোকাবিলায় কৌশল অবলম্বন করছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতি ১০ জনের সাতজন জমানো টাকা খরচ করছে বা সম্পত্তি বিক্রি করেছে। খাদ্য ঘাটতির মুখোমুখি হওয়া অনেক পরিবার হয় ঋণ করেছে বা সঞ্চয় থেকে খরচ করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের সুযোগ কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে।
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে মোটা চালের দাম প্রতি কেজি ৫৭ টাকা দরে বিক্রি হয়। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫২ টাকায় নেমে আসে। তবুও, দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি ছিল। তাই মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্টের শুরুর দিকে গমের আটা, মসুর ডাল, ডিম ও সয়াবিন তেলসহ অন্যান্য পণ্যের দামের অবস্থায় একই দেখা গেছে। সরকার পরিবর্তনের পর খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও এখনো তা ১০ শতাংশের বেশি। আগস্টে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি টানা ১৮ মাস জন্য নয় শতাংশের বেশি ছিল।


