গত শুক্রবার লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক হয়।বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে আগামী রমজান শুরুর আগের সপ্তাহে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার ও সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের ব্যাপারে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এত দিনের মনোভাবের ব্যাপক পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়।
যদিও লন্ডন বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস ও তারেক রহমানের একান্ত আলোচনায় নির্বাচনের সময় ছাড়া আর কী কী বিষয়ে কথা হয়েছে, তা নিয়ে সব মহলে কৌতূহল রয়েছে।
লন্ডন বৈঠক, বিএনপির প্রতিক্রিয়া ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এ বৈঠকে নির্বাচনের নতুন সময় নির্ধারণ ছাড়াও ভবিষ্যতে জাতি গঠনের ব্যাপারেও দুই নেতার মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে অধ্যাপক ইউনূসের পরামর্শ ও সহায়তা চাইবে। এ ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে বিএনপি।
১১ জুন লন্ডনের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স বা চ্যাথাম হাউস আয়োজিত আলোচনায় অধ্যাপক ইউনূস ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং গণভোটের ধারণাও নাকচ করে দেন।
এ ছাড়া এর আগে কোনো কোনো মহল প্রচারণার চেষ্টা হয়েছিল যে, অধ্যাপক ইউনূস নির্বাচন বিলম্বিত করতে চান বা তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। চ্যাথাম হাউসের আলোচনায় ইউনূস সেটাও নাকচ করে দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, লন্ডনে অধ্যাপক ইউনূসের এমন খোলামেলা বক্তব্য এবং তারেক রহমানের সঙ্গে আন্তরিক আলোচনা বিএনপিকে আশ্বস্ত করে তোলে। নির্বাচন প্রশ্নে এত দিন অধ্যাপক ইউনূসের সমালোচনা করে বিএনপির নেতারা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা এখন তাঁরা ভুলে যেতে চান
রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনাও আছে যে, বিএনপি কয়েক মাস ধরে নানা কারণে রাজনীতিতে অনেকটা চাপে পড়ে গিয়েছিল। লন্ডন বৈঠকের মধ্য দিয়ে অনেক দিন পর দলটি রাজনৈতিকভাবে একটা সুবিধাজনক অবস্থানে এল।
এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনাও আছে যে নির্বাচন নিয়ে সমঝোতা হলেও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ, জুলাই সনদ কার্যকর করা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হত্যাযজ্ঞের জন্য আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে নতুন কোনো জটিলতা তৈরি হয় কি না।
সব মিলিয়ে এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে নির্বাচন নিয়ে ‘পারস্পরিক সন্দেহ ও অবিশ্বাস’ দূর হয়েছে। নির্বাচনের পথ সুগম হয়েছে। বিএনপির দলীয় সূত্রগুলোও বলছে, তাদের দৃষ্টি এখন নির্বাচনের দিকে।


